kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভোলায় মেঘনায় মালবাহী জাহাজডুবি

ক্ষতিপূরণের লোভে মিথ্যা অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষতিপূরণের লোভে মিথ্যা অভিযোগ

ভোলার মেঘনায় একটি জাহাজের ধাক্কায় সিমেন্টের কাঁচামালবাহী এমভি তানভির তাওসিব-২ নামের কোস্টার জাহাজডুবির পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের উপঢৌকন দিয়ে প্রভাবিত করে রিপোর্টের মাধ্যমে একটি পক্ষের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে তানভির তাওসিব-২-এর মাস্টার খায়রুল আলমের একটি অডিও রেকর্ড কালের কণ্ঠ প্রতিনিধির হাতে রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা এলাকার বিরবির বয়া নামক স্থানে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মাস্টার খায়রুল দাবি করেন।

এ ঘটনায় ভোলা থানায় জিডি করা হলে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরদিন শুক্রবার আবার ভোলা সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ৮৮। তবে পুলিশের কাছে মৌখিক বক্তব্য ছাড়া দুর্ঘটনার কোনো প্রমাণ জাহাজ কর্তৃপক্ষ দাখিল করতে পারেনি।

মামলায় উল্লেখ আছে, ঢাকার পপুলার এন্টারপ্রাইজের মো. তোফাজ্জলের মালিকানাধীন এমভি তানভির তাওসিব-২ জাহাজের মাস্টার খায়রুল আলম জানান, গত ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে সিমেন্ট তৈরির প্রায় দুই হাজার ২০০ টন কাঁচামাল নিয়ে জাহাজটি ঢাকায় যাচ্ছিল। এ সময় বসুন্ধরা ফুড-১ নামের খালি জাহাজটি ওই জাহাজকে ধাক্কা দেয়। তাদের এ দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানায় বসুন্ধরা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। কারণ বসুন্ধরা গ্রুপের জাহাজটি ওই সময় হাতিয়ায় অবস্থান করছিল। আর তানভির তাওসিব-২ দুর্ঘটনার কোনো ফুটেজ বা ছবি কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিকে দিতে পারেনি তারা। এমভি সানিলা নামের একটি জাহাজ উদ্ধার করে তাদের।

একাধিক সূত্র জানায়, রাতে নিয়ম না মেনে জাহাজটি দ্রুত চালাতে গিয়ে মেঘনা নদীর বিরবির নামক স্থানে ডুবোচরে উঠে যায়। এ সময় পূর্ণ জোয়ারে জাহাজের ওপর পানি উঠে গেলে তা ডুবে যায়।

ভোলা সদর থানার ইলিশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রতন চন্দ্র দাস জানান, জাহাজডুবির একটি অভিযোগে এসআই সুজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আর মৌখিক অভিযোগে জিডির পর তা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়। তবে মৌখিক অভিযোগ ছাড়া তারা অন্য কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

এসআই সুজন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তারা আমাকে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে একটি জাহাজের বিরুদ্ধে। তবে কোনো প্রমাণ এ পর্যন্ত আমাকে দিতে পারেনি তারা।’

ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটির সঠিক বীমা করা নেই। তাই তারা নানাভাবে তৃতীয় পক্ষের ঘাড়ে দায়ভার চাপিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের অশুভ চেষ্টা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে এমন ঘটনা ঘটলে মাস্টার বা অন্য স্টাফরা ভিএইচএফ, মাইক ও মোবাইলের মাধ্যমে কাছাকাছি সব জাহাজকে জানানোর কথা। এমন কোনো প্রমাণও তারা থানাকে দিতে পারেনি। আর ঘটনার তিন দিন পর তারা অপপ্রচারে নেমেছে।

এদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সরকারের যেকোনো সংস্থাকে বসুন্ধরা ফুড-১ জাহাজটি সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা