kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বিএনপি এমন সংকটে আর পড়েনি

শফিক সাফি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএনপি এমন সংকটে আর পড়েনি

বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর। দলটি বর্তমানে যে সংকটে আছে, প্রতিষ্ঠার পর আগে আর কখনো তেমনটি দেখা যায়নি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, দলের ৭ম কাউন্সিল, পুরনো ও নতুন জোটের রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাষ, দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব কাটিয়ে পুর্নগঠন, সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন দলটির সামনে। সবকিছু ছাপিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার উপায় বের করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয়তা থাকার পরও ভুল রাজনীতির কারণে এখনো চোরাগলিতে আটকে আছে বিএনপি। প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ঢাকায় তার সঙ্গে বৈঠক বাতিল করা, জামায়াত ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইস্যুতে আগের অবস্থানে থাকা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি ভালভাবে নেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ওই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে যোগ্য নেতৃত্বও খুেঁজ পায়নি দলটি।

বিএনপির ঘনিষ্ঠজন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপিকে তার আগের অবস্থায় আসতে হলে দুই নেতার বাইরে কাউকে না কাউকে একক নেতৃত্ব দিতে হবে। তার নেতৃত্বেই খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন এবং বিএনপি মানুষের দল হিসেবে আবার সামনে আসবে। তিনি আরো বলেন, ‘২০ দল থেকে জামায়াতকে বাদ দিয়ে অন্যান্য দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের কর্মসূচি এখনই দেওয়া উচিত। জামায়াতকে বাদ দিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যে বার্তা যাবে তাতেই বিএনপি অনেকটা এগিয়ে থাকবে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেন, ‘অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বিএনপি এখন বেশি শক্তিশালী। তারেক রহমানের দিক-নির্দেশনায় স্থায়ী কমিটি সবাইকে নিয়ে দল পরিচালনা করছে। সামনে আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপির জন্মই হয়েছিল বাকশালের বিপরীতে দেশে গণতন্ত্র পুর্নপ্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। জিয়াউর রহমান সেটি করেছিলেন। পরে এরশাদ সেই পথ রোধ করেন, যা ৯ বছরের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়া আবারো প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমান সরকার সেই একই কাজ করছে। নেত্রীকে মুক্ত করে দেশে গণতন্ত্র পুর্নপ্রতিষ্ঠাই বিএনপির নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ।’

১৯৭৮ সালের এই দিনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দলটি পাঁচবার দেশ শাসনের সুযোগ পায়। বেশ কয়েকবার ভাঙনের মুখে পড়ে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় ভাঙনের মুখে পড়লে খালেদা জিয়া ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের শক্ত মনোবলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আশানুরুপ ফল না করতে পারা, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভরাডুবি পর এখন সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত দলটি। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। চলতি বছরের অক্টোবর অথবা ডিসেম্বর ৭ম কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। তবে দুই নেতাকে বাইরে রেখে কাউন্সিল হবে কী-না তা নিয়েও নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

দলের প্রধান খালেদা জিয়া ৫৭১ দিন ধরে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী। ৭৪ ঊর্ধ্ব বয়োবৃদ্ধ খালেদা জিয়া এখন নানা রোগে আক্রান্ত। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ১১ বছর ধরে লন্ডনে নির্বাসিত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন আসামি তিনি। এছাড়া আরও দুই মামলায় তার ১০ ও ৭ বছরের সাজা হয়েছে। তারও দেশে ফেরা এখন অনিশ্চিত। ৮১টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির অর্ধেকও পুনগর্ঠন করতে পারেননি দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দেশি বিদেশি একটি চক্র দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। তারই অংশ হচ্ছে খালেদা জিয়া কারাগারে। জনগন চাইলে বিএনপি যেকোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ নিতে সব সময়ের মতোই প্রস্তুত রয়েছে।’

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কাউন্সিল সামনে রেখে সাংগঠনিক জেলাগুলোর কমিটির কাজ এখনো চলছে। ৪০টির বেশি এরইমধ্যে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই হয়ে যাবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কর্মসূচি : ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার সকাল ১০টায় সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ভোর ৬টায় নয়াপল্টনসহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে শোভাযাত্রা হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা