kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

শিক্ষক নিয়োগে নীতিমালা চূড়ান্ত

বিদেশিও নিয়োগ পাবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে

শরীফুল আলম সুমন   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশিও নিয়োগ পাবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে

চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার উন্নয়নে জাপানের সম্রাট মেইজির পদক্ষেপের উদাহরণ দিয়েছিলেন। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার কথাও বলেছিলেন তিনি। সেই বক্তৃতার প্রতিফলন পাওয়া গেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের নীতিমালায়। গতকাল রবিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ওই নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক সূত্রে জানা যায়, দেশের স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশ থেকে আসা শিক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি খসড়া নীতিমালায় রাখা হয়েছে। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি অধ্যাপকরা অগ্রাধিকার পাবেন। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে রোবটিকস, এভিয়েশন ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অত্যাধুনিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ করতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা যাবে।

বিদেশ থেকে আসা শিক্ষক নিয়োগের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের ভবিষ্যত্ জনবলকে প্রস্তুত করতে হবে। সেখানে রোবোটিকসের মতো অনেক বিভাগ হয়তো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। কিন্তু তাত্ক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে হয়তো বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাবে না। এমন ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে বিশেষ করে আমাদের যেসব বিশেষজ্ঞ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন তাঁদের কেউ যদি যোগ দিতে চান তাহলে তাঁদের নিয়োগ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) থেকে অনুমোদন নিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সাধারণত এমন নিয়োগগুলো চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন হতে পারে।’

নীতিমালা চূড়ান্তকরণ সভায় শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।

জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত, মৌখিক ও প্রদর্শনী ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়। তবে এটা বিধিমালা হবে নাকি নীতিমালা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিধিমালা হলে তা মন্ত্রিসভায় পাস করতে হবে। আর নীতিমালা হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত করে জারি করতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রেও উচ্চতর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নীতিমালায় যেসব বিষয় এসেছে, সে ব্যাপারে আমরা একমত। তবে নীতিমালা হিসেবে চূড়ান্ত করে তা জারি করতে কমপক্ষে এক মাস লাগবে। আর যদি বিধিমালা হয়, তাহলে আরো বেশি সময় লাগবে।’

সূত্র মতে, চার বছর আগে ইউজিসি এই অভিন্ন নীতিমালার খসড়া করতে ছয় সদস্যের কমিটি করেছিল। যদিও সম্প্রতি এই কমিটি তাদের কার্যক্রম জোরদার করে খসড়া তৈরি করে।

সভা সূত্রে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রি পদ প্রভাষক হতে হলে অনার্স ও মাস্টার্সে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে কমপক্ষে ৩.৫ পেতে হবে। তবে বিভিন্ন অনুষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনুযায়ী প্রার্থীর যোগ্যতায় ভিন্নতা রয়েছে। এ ছাড়া পদোন্নতি পেতে হলে আগের মতোই শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার সময়সীমা ঠিক রাখা হয়েছে। তবে প্রকাশনা বাড়ানো হয়েছে। পদোন্নতি পেতে প্রকাশনার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো শিক্ষক যদি পিএইচডি বা গবেষণার কাজে যত দিনের ছুটি নেবেন শুধু ওই সময়টাই পদোন্নতির অভিজ্ঞতায় গণনা করা হবে। যদি ওই শিক্ষকের দেশে বা বিদেশে আরো বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় তাহলে তা কোনোভাবেই পদোন্নতির অভিজ্ঞতায় গণ্য করা হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা