kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

রংপুরের ফিজিওথেরাপি সেন্টার

নিজেদেরই ‘থেরাপি’ দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজেদেরই ‘থেরাপি’ দরকার

জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে স্ট্রোক ও মেরুদণ্ডের সমস্যা বাড়ছে দিনের পর দিন। ফলে চাহিদা বাড়ছে ফিজিওথেরাপির। এই সুযোগে রংপুরে বেসরকারি উদ্যোগে যত্রতত্র গড়ে উঠছে থেরাপি সেন্টার। যাচ্ছেতাই অবকাঠামো আর অদক্ষ জনবল দিয়ে পরিচালিত এসব থেরাপি সেন্টারে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে নগরীর ক্যান্টনমেন্ট চেকপোস্ট, মেডিক্যাল মোড় এবং ধাপ চারতলা মসজিদের আশপাশে গড়ে উঠেছে এমন ফিজিওথেরাপি সেন্টার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর শহরজুড়ে এখন বিপুলসংখ্যক ফিজিওথেরাপি সেন্টার গড়ে উঠেছে। ব্যবসা জমে যাওয়ায় এক মালিকের রয়েছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। তমব বেশির ভাগ সেন্টার পরিচালনায় কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। এমনকি কিছু সেন্টারে অপ্রয়োজনে রোগী ভর্তি রেখে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ফিজিওথেরাপি সেন্টারের বেশির ভাগেরই নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন। এ ছাড়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ডিপ্লোমাধারী অথবা স্বল্পশিক্ষিতরা রোগীদের থেরাপি দেন। অনেক ফিজিওথেরাপি সেন্টার রোগী আকৃষ্ট করতে অনুমতি ছাড়াই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করছে।

বিশেষ করে ডিজিটাল ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার-১ ও ২, ফিজিও সেন্টার এবং স্পিচ ফিজিওথেরাপি সেন্টারে শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট না থাকার অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ পাওয়া টেকনিশিয়ান বা ননটেকনিশিয়ান অল্পশিক্ষিত লোকের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে এই সেবা। যদিও ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল টেকনোলজি অব ফিজিওথেরাপি কোর্সধারীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ সূত্র জানায়, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের (ফিজিওথেরাপি) অবশ্যই বিভাগীয় প্রধানদের অধীনে কাজ করতে হবে। তাদের কাজ মেশিন অপারেট করা। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

একটি বেসরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে শারীরিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর আব্দুল হালিম। ২০১৬ সালে একটি স্বনামধন্য ফিজিওথেরাপি সেন্টারে ডিপ হিটিং মেশিন (শর্ট ওয়েভ) দিয়ে কোমরে থেরাপি দেওয়ার সময় ভয়ানক দগ্ধ হন তিনি। নীলফামারীর ডিমলার বাসিন্দা নজরুল ইসলামও অদক্ষ চিকিৎসকের খপ্পরে পড়েছিলেন বলে জানান।

রংপুর ডিজিটাল ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার-১-এর মালিক ইয়াসিন আলী কাজল জানান, স্ট্রোকের রোগী ভর্তি হলে কেবিন ভাড়া ৪০০ টাকা এবং দুটি থেরাপির জন্য ৬০০ টাকা নেন তাঁরা। প্রতিদিন খরচ পড়ে এক হাজার টাকা।

এই সেন্টারে রংপুরের বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নামসংবলিত সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান এবং নিউরোসার্জন (ব্রেইন, নার্ভ ও  মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ) ডা. মো. তোফায়েল হোসেন ভূঞার নামও রয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডা. তোফায়েল হোসেন ভূঞা জানান, ওই ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। অনুমতি না নিয়ে তাঁর নাম ব্যবহার করায় ওই সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি। তবে সাইনবোর্ডে লেখা চিকিৎসকরা ফিজিওথেরাপি সেন্টারে না বসলেও রোগীরা চাইলে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বলে জানান রংপুর ডিজিটাল ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার-১-এর মালিক ইয়াসিন আলী কাজল।

ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. মো. জুবায়েদ করিম জানান, থেরাপিস্টের অবশ্যই তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক জ্ঞান থাকতে হবে। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী থেরাপিও আলাদা হয়। এতে ভুল হলে রোগী স্থায়ীভাবে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন, রংপুরের সভাপতি ডা. তাশিকুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি সেন্টার পরিচালিত হবে স্নাতক ফিজিওথেরাপিস্টদের মাধ্যমে। আর ডিপ্লোমাধারীরা তাঁদের অধীনে কাজ করবে। কিন্তু এখনো তা মানা হচ্ছে না।

দীর্ঘদিন ধরে এসব বেসরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টার তৎপর থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা  নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। তবু চিকিৎসার নামে প্রতারণার বিষয়টি ছাড় দেওয়া হবে না। ক্লিনিক বা ফিজিওথেরাপি সেন্টার হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা