kalerkantho

গাড়ির গ্যাস বাড়ি কারখানায়

বগুড়ায় সিএনজি স্টেশন সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও শাজাহানপুর প্রতিনিধি   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাড়ির গ্যাস বাড়ি কারখানায়

প্রতীকী ছবি

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) সিলিন্ডারের মাধ্যমে অবৈধভাবে শিল্প-কারখানা ও বাসাবাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেখানে সিএনজি নেই, সেসব এলাকায় ফেরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে এই গ্যাস। এ ক্ষেত্রে ভ্যানে একাধিক সিলিন্ডার স্থাপন করে সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নিয়ে বাসাবাড়ি, কলকারখানার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, যানবাহনে সরাসরি গ্যাস বিক্রির চেয়ে রিকশাভ্যান, অটোভ্যান, লেগুনা, কাভার্ড ভ্যানে লুকানো অতিরিক্ত সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস বিক্রিতে লাভ বেশি। তাই কাজটি অবৈধ হলেও কোনো কোনো সিএনজি স্টেশন এভাবে বিপজ্জনক কায়দায় গ্যাস বিক্রি করছে। 

গত বুধবার গভীর রাতে শাজাহানপুরে এমনি অবৈধ পন্থায় গ্যাস বিক্রির সময় অভিযান চালান পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা। এ সময় শাজাহানপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মুঞ্জুর মটরস সিএনজি স্টেশনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি লিমিটেডের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। তোফায়েল জানান, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে স্টেশনের মালিক-কর্মচারীরা তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাধা প্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি বগুড়ার বিভিন্ন সিএনজি পাম্পে অবৈধভাবে গ্যাস বিক্রি শুরু হয়েছে। রিকশাভ্যান, অটোভ্যান, লেগুনা, কাভার্ড ভ্যানে কয়েকটি করে সিলিন্ডার রেখে সেগুলো ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে সহজে বোঝা যায় না। এসব যানে করে সিলিন্ডার ভর্তি সিএনজি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

বগুড়ায় মোট ১৮টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর আগে অবৈধভাবে সিএনজি গ্যাস গুচ্ছ সিলিন্ডারে বিক্রি করার অভিযোগে শাজাহানপুরের সাউদার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রকৌশলী তোফায়েল বলেন, ‘এভাবে অরক্ষিতভাবে সিএনজি বহন এবং ব্যবহার মারাত্মক হুমকির কাজ। যেকোনো সময় বিস্ফোরণে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।’

জানা গেছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পাওয়া যায়। সাধারণত ৬০, ৯০ ও ১৩০ লিটার ধারণক্ষমতার সিলিন্ডার ভ্যানে স্থাপন করা হয়। তবে বহনের সুবিধার জন্য ৯০ লিটার ধারণক্ষমতার দুটি বা তিনটি সিলিন্ডার স্থাপন করে ভ্যান তৈরি করা হয়। দুটি ৯০ লিটারের সিলিন্ডার দিয়ে প্রতিবারে ৪৫ ঘনমিটার সিএনজি ব্যবহার করা যায়।

শাজাহানপুর এলাকার সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার সময় একজন ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ওই এলাকার একটি বিস্কুট কারখানায় জ্বালানোর জন্য দুটি ৯০ লিটার ধারণক্ষমতার সিলিন্ডার দিয়ে মোট পাঁচটি ভ্যান তৈরি করেছেন। পাঁচ দিন পর পর তিনি সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস কিনে আনেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মুঞ্জুর সিএনজি স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মুঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘দেশের সব সিএনজি স্টেশন থেকে এভাবেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকার শিল্প-কারখানাগুলোতেও এভাবে সরবরাহ করা হয়। অবৈধ হলে সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ করে দিতে হবে। শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, মামলা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য