kalerkantho

বাধা পেয়ে বেপরোয়া ইয়াবা কারবারিরা

টেকনাফে ৬ মাসে বিজিবির ওপর ৯ বার হামলা

ওমর ফারুক   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাধা পেয়ে বেপরোয়া ইয়াবা কারবারিরা

কক্সবাজার এলাকা দিয়ে ইয়াবা পাচারে বাধা পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইয়াবা কারবারিরা। এমনকি তারা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। গত ছয় মাসে শুধু টেকনাফেই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের ওপর ৯ বার হামলা চালিয়েছে ইয়াবা কারবারিরা। এ সময় বিজিবির পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৪ জন। তবে বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকায় কক্সবাজার হয়ে ইয়াবার চোরাচালান কমে এসেছে।

বিজিবির ইয়াবা উদ্ধারের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরও কক্সবাজারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইয়াবা কারবারির তৎপরতা লক্ষ করা গেছে। তবে বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও অভিযানের মুখে সেই তৎপরতা অনেকটাই কমে এসেছে। আর চোরাচালানে বাধা পেয়ে ইয়াবা কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরই হামলা চালিয়ে বসছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত শুধু কক্সবাজারেই বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ১৪ জন। তারা হলো ইব্রাহিম, কামাল, হাবিবুর রহমান, জাবেদ মিয়া, আসমাউল সওদাগর, আবদুল গফুর, সাদেক, বিল্লাল হোসেন, আবদুস শুক্কুর, ইলিয়াস। অন্য চারজন অজ্ঞাতপরিচয়।

বিজিবির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাকারবারিদের রুখতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক কারবারিরা সুবিধা করতে না পেরে হামলার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত ২৭ জুলাই যশোরের পাঁচ ভুলোট সীমান্তে মাদক চোরাকারবারিদের চ্যালেঞ্জ করে বিজিবির একটি টহলদল। ওই সময় চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করলে হাবিলদার আকমল হোসেন নিহত হন। গত সোমবার রাজশাহীতে মাদক কারবারিদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা দা ছুড়ে মারে। এ সময় বিজিবির এক সদস্যের হাত কেটে যায়। গত সোমবার রাতে উখিয়ার রেজোয়ানতলী পাহাড়ি এলাকায় দুই চোরাকারবারি ইয়াবার বস্তা নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় বিজিবির টহলদলের সামনে পড়ে যায়। এ সময় তারা বিজিবির ওপর পাথর ছুড়তে ছুড়তে সীমান্ত এলাকায় চলে যায়। তাদের ফেলে যাওয়া বস্তা থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন ও প্রশিক্ষণ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার ফরিদ হাসান গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদকের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। শুধু মাদক কারবারি নয়, নিজেদের বাহিনীরও কেউ যাতে এ অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার এলাকায় আমাদের তৎপরতার কারণে ইয়াবা পাচার কমে এসেছে। বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, আগের বছরগুলোতে ইয়াবা কারবারিদের এতটা মারমুখী দেখা যায়নি। যারা ধরা পড়ছে তারা জানাচ্ছে, মাদকের কারবার বন্ধের উপক্রম হওয়ায় তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তারা যেকোনো উপায়ে মাদক পাচারে কক্সবাজার রুট চালু রাখতে চাচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত বছর বিজিবির অভিযানে কক্সবাজার সীমান্তে এক কোটি ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় ৭৪৮ ইয়াবা কারবারিকে। আর এ বছর গত সাত মাসে উদ্ধার হয়েছে ৫৩ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৫ পিস ইয়াবা। এ চিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে যে কক্সবাজার এলাকায় ইয়াবা পাচার ক্রমে কমে আসছে।

মন্তব্য