kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

ফিরতি যাত্রায় টিকিট বিড়ম্বনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফিরতি যাত্রায় টিকিট বিড়ম্বনা

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষজন। ফিরতি পথে বিলম্বের যন্ত্রণা তেমন ছিল না। তবে টিকিট পেতে যাত্রীদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে। ৯০০ টাকার ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে কেউ পেয়েছেন সাড়ে তিন হাজার টাকায়।

এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি যেতে যাত্রীদের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২৪ ঘণ্টাও কাটাতে হয়েছে যানজটে পড়ে। উত্তরের ট্রেনগুলোর সূচি বিড়ম্বনাও ছিল ভয়াবহ।

ঈদের আগের দিন রবিবার ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে টাঙ্গাইলের স্থানে স্থানে আট ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে রুবি ইসলামকে। বললেন, দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে পথ চলতে হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার রাত ১২টায় ঢাকার গাবতলী থেকে এসি বাসে বরিশাল যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন আজহারুল ইসলাম। পুরো রাত তাঁকে কাটাতে হয়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। পরদিন শনিবার দুপুর ১২টায় পাটুরিয়াঘাটে তাঁদের বাসটি ফেরিতে ওঠে। তারপর বরিশাল পৌঁছতে বিকেল ৪টা। তিনি ঢাকায় ফিরবেন আগামী শুক্রবার। বাড়ি যাওয়ার সেই যন্ত্রণার কথা মনে করেই বললেন, ‘ঢাকায় ফিরব পরিস্থিতি দেখে।’   

যারা ভোগান্তি সয়ে ঈদ করতে বাড়ি গিয়েছিল তারা ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে। অনেকেই গত মঙ্গলবার আগেভাগেই ফিরেছে। গতকাল বুধবারও বাড়ি থেকে ফেরা যাত্রীদের দেখা গেছে বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে।

এবার ঈদে গত শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটিসহ পাঁচ দিন ছুটি কাটিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবস। এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। তার পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা ছুটি পাচ্ছেন আরো তিন দিন। অনেকে বুধবার (১৪ আগস্ট) ছুটি নিয়ে অতিরিক্ত ছুটি উপভোগ করছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী রবিবার থেকে ঢাকায় কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে। ঢাকার পরিচিত দৃশ্য আবার দেখা যাবে আগামী সপ্তাহে।

ছুটির পর কর্মস্থলে যোগ দিয়ে গতকাল সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে অন্যের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল কম।

চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখী পরিবহনে যাত্রী বাড়ছে বলে পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান। সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গেলে দেখা যায়, ট্রেনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফিরছেন অনেকেই। রংপুর এক্সপ্রেসে করে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় ফেরা রাসেল আহমেদ বললেন, ‘যাওয়ার সময় একই ট্রেন ১৫ ঘণ্টা দেরি করেছিল। এবার ফেরার ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছে। এই দেরি মানিয়ে নেওয়া যায়।’

সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দেরিতে আসে খুলনা থেকে। উত্তরের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী চারটি ট্রেন নীলসাগর, দ্রুতযান, একতা ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসেও দেরি হচ্ছে। এসব ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে বিমানে বাড়তি অর্থ খরচ করেও ফিরছেন। দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য মাহতাব হোসেন নীলসাগর, দ্রুতযান, একতা ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের মধ্যে কোনো ট্রেনেরই কোনো শ্রেণির টিকিট পাননি। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তির কাছে ট্রেনগুলোর এসি টিকিট মিলছে। এগুলোর দাম ৯০০ টাকা হলেও কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছিল সাড়ে তিন হাজার টাকায়। হক এন্টারপ্রাইজের দুটি বাস প্রতিদিন পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে ঢাকায় আসে। এই বাসের টিকিটও ‘নেই’। শেষ পর্যন্ত তিন হাজার ২০০ টাকায় নভো এয়ারের বিমানের টিকিট পেয়ে ঢাকায় ফেরেন গত মঙ্গলবার বিকেলে। 

শামীম আহমদ গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় এনা পরিবহনের বাসে করে ময়মনসিংহ মহানগরীর মাসকান্দা থেকে রওনা দিয়ে রাজধানীর কুড়িলে আসেন দুই ঘণ্টায়। তিনি বলেন, ‘যাওয়ার সময় যানজটে অবরুদ্ধ থাকতে হয়েছে ঢাকার মহাখালী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত।’

সদরঘাটে গতকাল সকাল থেকে ভিড়তে শুরু করে নৌযান। চাঁদপুর থেকে ভোর ৫টায় রবরব-২ নামের লঞ্চে ওঠেন আবরার হোসেন। ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় ফেরেন তিন ঘণ্টায়। তিনি জানান, যাত্রী কম ছিল। ঢাকায় নেমে দেখি সেই যানজট নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা