kalerkantho

ঈদ যাত্রায় ফেরিঘাটে তীব্র চাপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ঈদ যাত্রায় ফেরিঘাটে তীব্র চাপ

ঈদ সামনে রেখে দেশের ব্যস্ততম দুই নৌ রুট পদ্মার পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে গতকাল শুক্রবার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এর মধ্যে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরির ধীরগতির খবর পেয়ে বেশির ভাগ যানবাহন ছোটে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার দিকে। ফলে অনুকূল আবহাওয়ায় ১৮ থেকে ২০টি ফেরি চলাচল করলেও স্বাভাবিকের চেয়ে যানবাহনের তিন গুণ চাপে পড়ে পাটুরিয়া ঘাট। এ ঘাটে এসে আট কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে পড়ে যানবাহন। ফলে ঢাকা থেকে পাটুরিয়া যেতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লেগে যায়। এতে তীব্র দুর্ভোগ পোহায় ঘরমুখো যাত্রীরা। অন্যদিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে সকালের দিকে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ তৈরি হলেও বিকেলের দিকে ঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ে। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো  খবর—

মানিকগঞ্জ : পাটুরিয়া ঘাটে আসতে তীব্র যানজটে পড়া কুষ্টিয়াগামী আহম্মেদ বাবু নামের এক যাত্রী বলেন, ‘গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট পৌঁছতে সর্বোচ্চ সময় লাগার কথা আড়াই ঘণ্টা। অথচ আমার বাস ঘাটে পৌঁছল পাক্কা সাড়ে ছয় ঘণ্টায়। কতক্ষণে নদী পার হতে পারব, তা আল্লাই জানেন।’ প্রচণ্ড বিরক্ত আর ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা বড় বড় কথা বলেন; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেন না।’ সকাল ৮টায় গাবতলী থেকে ছেড়ে পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছতে ভিলেজ লাইন পরিবহনের চালক কুদ্দুল মিয়ার লেগেছে পাঁচ ঘণ্টা। তিনি বলেন, ‘এক ট্রিপ দিতেই আমার দিন পার। তা হইলে মালিকরে কী বুঝ দিমু। আর আমারই বা কী থাকব?’

ঈদ যতই এগিয়ে আসছে ঢাকা-আরিচা (পাটুরিয়া) মহাসড়কে ততই বাড়ছে যানজট। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকেই পুরো রাস্তায় ছিল যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ। স্বাভাবিকের তুলনায় তিন গুণ যানবাহন ছিল সড়কে। পাটুরিয়া ঘাটে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। গতকাল বিকেল ৪টা নাগাদ ঘাট কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে প্রায় চার হাজার গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। এ রুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করে।

শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) : পাটুরিয়া ঘাটে লঞ্চ ও ফেরিতেও হাজার হাজার যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঘাট সূত্র জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের পাশাপাশি পদ্মার আরেক ব্যস্ত নৌ রুট শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে বাড়তি চাপ পড়ে। এ ছাড়া শুধু রাজধানীর পাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত আসা বাসগুলোর যাত্রীদের এক-দুই কিলোমিটার দূরে নামিয়ে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা হেঁটে লঞ্চ ও ফেরিতে ওঠে। অন্যদিকে আরিচা-কাজীর হাট নৌ রুটেও লঞ্চে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

মুন্সীগঞ্জ : শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে গতকাল ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামে। সকালে শিমুলিয়া লঞ্চ পন্টুনে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চ ও সি-বোট ঘাটে লঞ্চের অপেক্ষা করছে অসংখ্য যাত্রী। ওপার থেকে যখনই কোনো খালি লঞ্চ ঘাটে ভিড়েছে তখনই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে লঞ্চে উঠতে। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঘাট ছাড়ে লঞ্চগুলো। এতে যেকোনো সময়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকলেও কর্তৃপক্ষের সেদিকে নজর ছিল না।

গতকাল দুপুর পর্যন্ত পারাপারের অপেক্ষায় থাকে প্রায় ৬০০ যানবাহন। এর মধ্যে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। তবে দুপুরের পর থেকে ঘাটের চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। বেলা গড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট হয়ে পড়ে যানজটমুক্ত। যাত্রীর সংখ্যা একেবারে কমে যায়। একেবারে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে ঘাট এলাকা। এ রুটে বর্তমানে মোট ১৬টি ফেরি দিনরাত সার্ভিস দিচ্ছে বলে জানান বিআইডাব্লিউটিসির ম্যানেজার আব্দুল আলিম।

শিবচর (মাদারীপুর) : কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খালি ট্রিপ নিয়ে শিমুলিয়ার দিকে ফিরে যায় ফেরি ও লঞ্চগুলো। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসা যাত্রীরা অভিযোগ করে, ঢাকা থেকে মাওয়া বা শিমুলিয়ায় আসতে তারা ৭০ টাকার স্থলে আড়াই শ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েছে। এরপর লঞ্চে উঠলে আবারও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়।

এবার কাঁঠালবাড়ী ঘাটে গতকাল ঢাকা অভিমুখী গরুবোঝাই ট্রাকের চাপ থাকলেও মহাসড়কে এবং ঘাটে কোনো বাড়তি টাকা ছাড়াই ট্রাকগুলো নির্বিঘ্নে পার হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফরিদপুরের সদরপুরের গরু ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বলেন, ‘কোথাও কোনো বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে না। আমরা খুব সন্তুষ্ট। সহজেই গরু নিয়ে ঢাকায় যেতে পারছি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফিরতি ট্রিপে কাঁঠালবাড়ী থেকে খালি আসতে হবে বলে গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করে যাত্রীরা। তারা জানায়, শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা কিছু লঞ্চে ৩৫ টাকা ভাড়ার টিকিট দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা এবং স্পিডবোটে ১৩০ টাকা ভাড়ার স্থলে ১৮০ টাকা আদায় করা হয়। এরপর ইজি বাইক, লেগুনা ও লোকাল বাসগুলোও বাড়তি ভাড়া আদায় করে।

মন্তব্য