kalerkantho

জেআরসির সচিব পর্যায়ের বৈঠক

গঙ্গা ব্যারাজের যৌথ সমীক্ষার জন্য কমিটি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গঙ্গা ব্যারাজের যৌথ সমীক্ষার জন্য কমিটি

প্রস্তাবিত পদ্মা বা গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণসংক্রান্ত যৌথ সমীক্ষা চালানোর লক্ষ্যে কমিটি করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে এ কথা জানানো হয়েছে। বৈঠকে ফেনী, ধরলা, দুধকুমার, মনু, খোয়াই, গোমতী, মুহুরী—এই সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে দ্রুত কাজ করতে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বিষয়টি এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে দুই দেশ। খুব শিগগির জেআরসির মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারেও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের ছয়টি ও ভারতের চারটি এজেন্ডা ছিল। একটি এজেন্ডা ছিল অভিন্ন।

বৈঠক শেষে যৌথ ব্রিফিংয়ে ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউপি সিং বলেন, বাংলাদেশ গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করে পানি ব্যবহার করলে ভারতের কোনো আপত্তি নেই। তবে এই ব্যারাজের প্রভাব কী হবে এবং কোন স্থানে ব্যারাজ নির্মাণ করলে ভালো হবে সে বিষয়ে একটি যৌথ সমীক্ষা চালানোর ওপর তাঁরা জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের ফলে বিহারে প্রতিবছর পলি জমে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্যই আমরা সমীক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করছি।’

অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব উল্লেখ করে ভারতীয় সচিব বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদীগুলোর অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা করা হবে।

ফেনী নদী প্রসঙ্গে ভারতীয় সচিব বলেন, ‘এ নদীটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর পানি ত্রিপুরায় খাবারের পানির জন্য এবং ছোট পরিসরে সেচকাজের জন্যও প্রয়োজন। দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটি এই নদীর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনা করবে।’

বাংলাদেশের পানিসচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। আমরা সাতটি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই কাজ এগিয়ে নিতে চাই। আমাদের কমিটি হয়েছে। এই কমিটি কাজ করবে।’ তিনি বলেন, ‘ভারতে আন্ত নদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হিমালয়ান কম্পোনেন্টে আন্ত নদী সংযোগ প্রকল্প করা হলে তা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে।’

ভারতের সচিবও এ বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলো সংযোগের কোনো পরিকল্পনা ভারতের আপাতত নেই।

বাংলাদেশের সচিব বলেন, দীর্ঘদিন পর আলোচনা হলো। এটি এ দেশের পানিসম্পদ খাতের জন্য বেশ ইতিবাচক।

মন্তব্য