kalerkantho

দিল্লি কিছুতেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না

জয়ন্ত ঘোষাল, নয়াদিল্লি   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দিল্লি কিছুতেই ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না

বিজেপির কট্টরবাদী নেতা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিল্লি পাঠানোর আগে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করিয়েছেন। আসাদুজ্জামান খান দিল্লি আসার আগে ঢাকায় দিল্লির হাইকমিশনারের সঙ্গে আগাম আলোচনা সেরে রেখেছিলেন। যাকে বলে আরম্ভের আগের আরম্ভ, সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বালানোর আগেবিকেলে সলতে পাকানো।

দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এটা ছিল সপ্তম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এর আগে লালকৃষ্ণ আদবানি থেকে সাম্প্রতিক রাজনাথ সিংহ পর্যন্ত সবাই বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের বিষয় তুলেছিলেন। কাজেই প্রসঙ্গটি আবারও ওঠা নতুন কোনো ঘটনা নয়।

ভারতীয় সূত্র বলছে, ব্যক্তির নাম অমিত শাহ তাই ঢাকার এবার একটা বাড়তি ভয় ছিল। কিন্তু অমিত শাহর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গেছে, এই বৈঠকে অমিত শাহ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন, এমন কিছুই করা হবে না, যাতে বাংলাদেশ আহত হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কোনোভাবেই চিড় ধরাতে তিনি রাজি নন। বাংলাদেশের মন্ত্রী এই বৈঠকে সন্তুষ্ট। তবে আসাদুজ্জামান খান সীমান্তে বিএসএফের নেতিবাচক ভূমিকা অমিত শাহকে জানিয়েছেন। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনার কথা গতকাল ভারত স্বীকারও করেছে। ঢাকার বক্তব্য, অতীতে বিএসএফের হাতে এক কিশোরীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং সেই ছবি প্রচারের অমানবিকতা দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে দিয়েছিল। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা সে ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না।

দ্বিতীয়ত, বিএসএফের ভূমিকায় ঢাকায় ভারতবিরোধী জনমত তীব্র হচ্ছে। তার সুযোগ নিতে চাইছে জামায়াত। বিরোধী শিবির ঢাকায় এ ব্যাপারে সোচ্চার। ভারত বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করার আশ্বাস দিয়েছে ।

তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর আগস্ট মাসে ঢাকা যাবেন। তারপর অক্টোবর মাসে শেখ হাসিনা আসছেন দিল্লি। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, এখন পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আবার যেভাবে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—সমঝোতা এক্সপ্রেস বন্ধ হচ্ছে, পাকিস্তানের আকাশসীমা দিয়ে ভারতীয় বিমান যেতে পারবে না বলে গতকাল জানানো হয়েছে—এ অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ‘একসঙ্গে অনেক ফ্রন্ট তৈরি করা আমাদের রণনীতি নয়। আমরা চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক এ জন্য ভালো করতে চাই।’

আসামে ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন’ অনুসারে রাজ্যটিতে বেআইনিভাবে আগমনকারী ৪০ লাখ মানুষের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তখনো বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার উদ্বেগ ব্যক্ত করেছিল। এখন মোদি সরকার আরো এক ধাপ এগিয়ে গোটা দেশে সব রাজ্যের জন্যই এই রেজিস্টার চালু করতে চায়।

ভারত সন্ত্রাস দমনে এবং ভারতীয় জঙ্গিদের প্রত্যর্পণের মতো বিষয়ে ঢাকার ভূমিকার প্রশংসা করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মানবিক কারণে ভারত অর্থ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের বক্তব্য, শুধু অর্থ সাহায্যের প্রশ্ন নয়। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের আরো সাহায্য চায় ঢাকা।

 

মন্তব্য