kalerkantho

রেলওয়ে থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ

ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি গ্রহণ

খুলনা অফিস   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি গ্রহণ

মাদক মামলায় গ্রেপ্তার করা এক নারী (৩০) আদালতে রেলওয়ে থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করার পর পুলিশের গঠিত দুটি তদন্তদল ওই নারীর জবানবন্দি নিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে খুলনা কারাগারে বিচার বিভাগীয় হাকিম আলিফ রহমানের উপস্থিতিতে ওই নারীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

এদিকে এ ঘটনায় নারী নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা।

ওই নারীর অভিযোগের পর এরই মধ্যে খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি ওসমান গণি পাঠান ও উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, খুলনার রেলওয়ে থানা হাজতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ছাড়াও পুলিশ সদর দপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তিনি জানান, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাঁরা কথা বলবেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশ সুপার (এসপি) সেহেলা পারভীন জানান, একজন নারী হাকিমের উপস্থিতিতে গতকাল সকাল ১০টার দিকে খুলনা জেলা কারাগারের ফটকে অভিযোগকারী নারীকে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাঁর কাছে তাঁকে কোথায় থেকে কিভাবে আটক করা হয়, থানায় কী ঘটেছিল—সেসব বিষয়সহ আরো বেশ কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়। তবে ওই নারী কী বলেছেন, তা জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসপি সেহেলা পারভীন বলেন, ওই দিন রাতে থানায় যাঁরা কর্মরত ছিলেন তাঁদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে ব্রিফ করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফরেনসিক প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তাই তাঁরা দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। আদালত বন্ধ থাকায় আগামী ১৮ আগস্ট মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে করে খুলনায় আসার পর রেলস্টেশনে কর্তব্যরত রেলওয়ে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ওই নারীকে আটক করে। পরদিন মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে ওই নারী অভিযোগ করেন, রেলওয়ে থানা হাজতে তাঁকে ধর্ষণ করেছেন ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য।

 

মন্তব্য