kalerkantho

সবিশেষ

খাদ্যের অপচয় রোধে ফিলিপাইনে অভিনব উদ্যোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্যের অপচয় রোধে ফিলিপাইনে অভিনব উদ্যোগ

আধুনিক জীবনযাত্রার অঙ্গ হিসেবে অনেক খাবার নষ্ট হয়। ফলে অপচয়ের পাশাপাশি জলবায়ুরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফিলিপাইনে এক প্রকল্পের আওতায় খাদ্যের অপচয় কমানোর চেষ্টা চলছে।

আবর্জনার স্তূপে উচ্ছিষ্ট খাবার দেখলে খাওয়ার ইচ্ছা জাগার কথা নয়, কিন্তু ক্ষুধার চোটে বাধ্য হয়ে এসব খেতে হয়। ম্যানিলা শহরে ভোর থেকেই আবর্জনা কুড়ানিরা ফেলে দেওয়া খাদ্যের সন্ধান চালিয়ে যায়। ফিলিপা বাল্ডে নিজের পরিবারকে এই ‘পাগপাগ’ বা আবর্জনার স্তূপে কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্যের অবশিষ্ট অংশ খাওয়ান। দেশটির এক কোটি ৩০ লাখ মানুষের দিনে তিন বেলা খাবারের সামর্থ্য নেই।

ফিলিপাইনে খাদ্যের অপচয়ও কম হয় না। পকেটে টাকা থাকলে রেস্তোরাঁয় ‘যত পারো তত খাও’ বুফে ভোজে অফুরন্ত খাবার খাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত প্লেট যে খালি হয় না, তাতে বিস্ময়ের কারণ আছে কি? ডাব্লিউডাব্লিউএফের মেলোডি মেলো-রাইক মনে করিয়ে দেন, যখন আপনি খাবার নষ্ট করছেন, তখন আসলে অনেক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। যেমন পানি, বিদ্যুত্, মাটির পুষ্টি। খাবার উত্পাদন, পাঠানো, বিতরণের মতো অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার মধ্যেও অপচয় ঘটে। এসব বিষয় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ত্বরান্বিত করছে।

মেলোডি মেলো-রাইক এমন এক প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার আওতায় রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলোকে খাদ্য অপচয় কমানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। ম্যানিলা থেকে গাড়িতে ঘণ্টা দেড়েক দূরে পর্যটকদের প্রিয় তাগাইতাই শহর। সপ্তাহান্তে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অসংখ্য মানুষ শহরের ব্যস্ততা থেকে পালিয়ে সেখানে চলে যায়। বলা বাহুল্য, খাওয়াদাওয়াও মনোরঞ্জনের মধ্যে পড়ে। সেখানকার পিকনিক পার্ক একটা বড় আকর্ষণ। ফিলিপাইনের মানুষ সাধারণত দিনে পাঁচবার খাওয়াদাওয়া করে। এখানে সবাই বাসা থেকে কিছু না কিছু নিয়ে আসে।

দেশে সমৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপচয়ের মাত্রাও বাড়ছে। সারা বছর গোটা দেশে প্রায় তিন লাখ টন চাল ফেলে দেওয়া হয়। মার্লন আসুয়েলোর মতো কিছু মানুষ এই প্রবণতার বিরুদ্ধে কিছু একটা করতে চায়। স্পা হোটেলের রাঁধুনি হিসেবে তিনি শুধু অতিথিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করতে চান না, জঞ্জালের পরিমাণ কমাতেও তিনি উদ্যোগ নিচ্ছেন।

মার্লন আসুয়েলো বলেন, ‘আসলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্লেটে খাবারের পরিমাণ স্থির করা, কারণ আগে আমরা প্রচুর পরিমাণ খাবার পরিবেশন করতাম, ফলে তার অনেকটাই নষ্ট হতো। তাই আমরা পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।’

ফিলিপা বাল্ডে তাঁর ‘পাগপাগ’ নিয়ে বাসায় ফিরছেন। দুই বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ৬৭ বছর বয়সী এই নারীর কাঁধে সংসার চালানোর দায়িত্ব এসে পড়েছে, তখন থেকেই তিনি আবর্জনা কুড়ানি হিসেবে কাজ করছেন। বাসায় ফিরে তিনি কুড়িয়ে পাওয়া মুরগির মাংস ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করতে পানিতে ফোটাচ্ছেন। পেঁয়াজ ও মসলা যোগ করে তিনি সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য রাতের খাবার রান্না করলেন। তিনি এই কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘এখানে হয় কাজ আছে কিংবা নেই। অবশ্যই এমন খাবার খেতে না হলেই ভালো হতো, কিন্তু এ ছাড়া উপায় নেই। জীবন বড় কঠিন।’

ধনীদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকলেও ভবিষ্যতে অপচয়ের বদলে উদ্বৃত্ত খাবার দান করা হলে ফিলিপা বাল্ডের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে উঠবে। কারণ তাঁর মতে, আবর্জনার দুর্গন্ধে কখনোই অভ্যস্ত হওয়া যায় না। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা