kalerkantho

ঝাড়ফুঁকের নামে মসজিদে শিশু ধর্ষণ

পাঁচ সহযোগীসহ ইমাম গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝাড়ফুঁকের নামে মসজিদে শিশু ধর্ষণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঝাড়ফুঁক ও পড়া পানি দেওয়ার কথা বলে আট বছরের এক অসুস্থ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং হাসপাতাল থেকে ধর্ষিতা শিশুটিকে অপহরণচেষ্টার অভিযোগে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ আরো পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার চাঁদমারি এলাকার বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় ইমাম ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত কক্ষে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ফতুল্লার চাঁদমারি, ইসদাইরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক ফজলুর রহমানসহ ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব। আটক অন্য পাঁচজন হলেন মসজিদটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শরীফ হোসেন, ইমামের সহযোগী রমজান আলী, গিয়াস উদ্দিন, হাবিব-এ-এলাহি ও মোতাহার হোসেন।

গতকাল দুপুরে র‌্যাব-১১ অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা একটি গার্মেন্ট কারখানার নৈশ প্রহরীর কাজ করেন। মা গার্মেন্টকর্মী।

র‌্যাব জানায়, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ওই শিশুটি বেশ কিছুদিন ধরে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ভয় পেত। প্রতিবেশীদের পরামর্শে ঝাড়ফুঁকের জন্য ইমাম ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শিশুটির বাবা। ওই ইমাম শুক্রবার ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে নিয়ে মসজিদে আসতে বলেন। কথা মতো পরের দিন চাঁদমারি এলাকায় বায়তুল হাফেজ জামে মসজিদে গেলে ইমাম ফজলুর রহমান শিশুটিকে রেখে তার বাবাকে বলে আগরবাতি ও মোমবাতি কিনে আনতে। ভোর ৫টার সময় কোনো দোকান খোলা না থাকায় তিনি বেদিশা হয়ে ঘুরছিলেন। এ সময় ফজলুর মসজিদের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। এরপর নিজের রুমে শিশুটিকে বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তার বাবাকে ফোন দিয়ে পানও আনতে বলেন ফজলুর। প্রায় ৪০ মিনিট পর শিশুটির বাবা এসে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে শিশুটি ধর্ষণের বিষয়টি মা-বাবাকে জানায়। তাঁরা বিকেলে ওই মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের কাছে অভিযোগ জানান।

কিন্তু সেখানে ইমামের পক্ষের লোকজন তাঁদের হুমকি দেয়। পরে অন্যদের সহায়তায় শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে গিয়েও ইমামের লোকজন শিশুটিকেসহ তার মা-বাবাকে অপহরণের চেষ্টা করে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে হাসপাতালের নার্সদের সহায়তায় শিশুটির বাবা বোরকা পরে ছদ্মবেশে র‌্যাব কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ দেন। পরে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ধর্ষক ইমাম ফজলুর রহমানসহ ছয়জনকে আটক করে। জানা গেছে, ধর্ষণের পর শিশুটিকে গলায় ছুরি ধরে শাসিয়ে দেন ফজলুর রহমান। মা-বাবাকে এ ঘটনা জানালে তাকে জবাই করা হবে বলে ভয় দেখান তিনি।

র‌্যাব জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টানা ছয় দিন যাবত্ তার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। র্যাবের নিরাপত্তা পাহারার মধ্য দিয়ে শিশুটির চিকিৎসা চলছে। ধর্ষক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আসাদুজ্জামান গত রাতে জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। টানা কয়েক দিন রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তবে চিকিৎসকদের সমন্বিত চেষ্টা ও সেবা-শুশ্রূষায় সে এখন শঙ্কামুক্ত।

 

 

মন্তব্য