kalerkantho

কোরবানির পশু পর্যাপ্ত এখনো বিক্রি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কোরবানির পশু পর্যাপ্ত এখনো বিক্রি কম

মরুভূমির জাহাজ খ্যাত উট বরাবরই কোরবানির পশুর হাটে নজর কাড়ে। এবারও গাবতলীর হাটে উট উঠেছে। দাম ১২ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাঁকা হচ্ছে। ক্রেতা দর্শনার্থীর কাছে এ যেন এক ‘ভিআইপি’ পশু। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুত রাজধানীর ১৮টি কোরবানির পশুর হাট। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পশু নিয়ে হাটগুলোতে এরই মধ্যে হাজির ব্যবসায়ীরা। সব কটি হাটে পর্যাপ্তসংখ্যক পশু রয়েছে। তবে এখনো জমে ওঠেনি কেনাকাটা। আজ-কালের মধ্যে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হবে, এমন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকায় পশু রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় দামে কম পেলেও এখনো পশু কেনায় ক্রেতাদের আগ্রহ কম। আগামী শনি ও রবিবার সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার ভাটারার সাঈদনগর এবং আফতাবনগরের দুটি হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্র, শনি এবং রবিবার—এই তিন দিন অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। আর হাট বসানোর প্রস্তুতির জন্য আরো দুই দিন পেয়েছেন ইজারাদাররা। তবে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই পশুর হাটগুলোতে গরু, ছাগল, দুম্বা, মহিষসহ অন্য পশু আনা শুরু হয়। পশুর হাটের নির্ধারিত সময়ের আগেই পশু আনা শুরু—এটি জানার পরও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। এ ব্যাপারে দুই সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা মন্তব্য করতেও রাজি হননি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভাটারার সাঈদনগর এবং আফতাবনগরের দুই হাটে পশু উঠতে শুরু করে গত সোমবার থেকে। এই তিন হাটে কোরবানির পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যা বেশি। ছাগলসহ অন্য পশুর জন্য আলাদা জায়গা রাখা হলেও এখনো তা খালি। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং পশু রাখার উপযোগী ব্যবস্থা আগেই করা হয়েছে। ছোট, বড়, মাঝারি সব ধরনের গরু উঠেছে এই তিন হাটে। ৫০ হাজার থেকে ছয় লাখ টাকা দামের পশু রয়েছে এই তিনটি হাটে।

মঙ্গলবার থেকে এই তিন হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। পশু দেখার পর দামদরও করছেন কেউ কেউ। কিন্তু কেনার ব্যাপারে এখনো আগ্রহ কম। কোনো কোনো ক্রেতা পশুর প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দাম বলছেন বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গরু দেখতে এসেছিলেন আফতাবনগর হাটে। হাটে এসেই ঝিনাইদহ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী শহীদ মিয়ার কাছে গেলেন। ছোট-মাঝারি-বড়, এই তিন ধরনের গরু হাটে এনেছেন শহীদ। প্রথমে বড় গরুটির দাম জানতে চাইলে সাড়ে তিন লাখ টাকা চাইলেন শহীদ। গরুটির আনুমানিক ওজন ১৩-১৪ মণ। এরপর ১০ মণের কম একটি কালো রঙের ষাঁড়ের দাম জিজ্ঞেস করলে বিক্রেতা শহীদ দুই লাখ টাকা দাম হাঁকান। পাল্টা দাম না বলেই হাবিবুর অন্য একটি গরুর কাছে যান। আনুমানিক পাঁচ মণ ওজনের একটি গরুর প্রতি আগ্রহ দেখালে বিক্রেতা মানিক এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাম চাইলেন। এভাবেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দরদাম চলছিল আফতাবনগর পশুর হাটে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৫টি গরু নিয়ে সাঈদনগর হাটে আসা ব্যবসায়ী তফাজ্জল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শনিবার ও রবিবার এই দুই দিন বিক্রি বেশি অইবো। ক্রেতারা এহন হাটে আসে দাম সম্পর্কে অনুমান করতে। ঘুরে-ফিরে উটকা দাম বলে চলে যায়। তয় গত মঙ্গলবার এবং বুধবার বেশ কয়টা গরু বিক্রি হইছে।’

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, কোরবানি উপযোগী গরু দেশে যথেষ্ট রয়েছে। প্রথম ব্যাচে গরু ঢাকায় নিয়ে এসেছেন অনেকে। বিক্রি ভালো হলে আগামী শনি ও রবিবার কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আরো গরু ঢাকায় আনা হবে। তবে ব্যবসায়ীদের ভয় ভারতীয় গরু নিয়ে। ভারতের গরু দেশে প্রবেশ করলে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, হাটে ভিড় কম থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গরু দেখতে এসেছেন তাঁরা। ঢাকায় গরু রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ঈদের আগের দিন গরু কিনতে আগ্রহী তাঁরা। তবে দামে মিললে এবং ব্যবসায়ীদের তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা থাকলে গরু কিনতে বিলম্ব করতে চান না তাঁরা। আর ভারতীয় গরু হাটে এলে দাম একটু কম হবে, সে সুযোগও হাতছাড়া করতে চান না অনেকে। খাসি কেনার ক্ষেত্রে ঈদের আগের দিনই বেশি পছন্দ ক্রেতাদের।

আফতাবনগর হাটে পশু দেখতে আসা হাবিবুর রহমান রবিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গরুর খাবার ও পরিচর্যা করার জন্য লোক ঢাকায় খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে কোনো ব্যবসায়ী নিজ দায়িত্বে ঈদের দিন সকালে গরু পৌঁছে দিতে পারলে আজই কিনতে পারি। এখন পশুর দাম একটু বেশি চাইছেন বিক্রেতারা।’

সাঈদনগর পশুর হাটের ইজারাদার ইকবাল হোসেন খন্দকার বলেন, ‘দু-চারটি গরু বিক্রি হয়েছে। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে। প্রতিবছর ঈদের আগের তিন দিন গরু বিক্রি বেশি হয়।’

মন্তব্য