kalerkantho

শনিবার । ১৮ জানুয়ারি ২০২০। ৪ মাঘ ১৪২৬। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা পাওনা

লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দিতে চায় বিটিআরসি

কাজী হাফিজ   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ দিতে চায় বিটিআরসি

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির কাছে পাওনা প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবার তৃতীয় অপারেশনাল ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছে। এ ব্যবস্থায় এই দুই প্রতিষ্ঠানকে তাদের লাইসেন্স ‘কেন বাতিল করা হবে না’ তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হতে পারে। বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন পেলেই ৩০ দিনের সময় দিয়ে গ্রামীণফোন ও রবিকে চিঠি দেওয়া হবে।

বিটিআরসির প্রথম অপারেশনাল ব্যবস্থা ছিল গ্রামীণফোনের ৩০ আর রবির ১৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ কমিয়ে দেওয়া। গত ৪ জুলাই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ১৭ জুলাই তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর  দ্বিতীয় ব্যবস্থা হিসেবে এই দুই অপারেটরকে তাদের গ্রাহকসেবার নতুন কোনো প্যাকেজ এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশ থেকে কোনো যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে এনওসি (অনাপত্তি পত্র) না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ২২ জুলাই থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।

তার আগে গত ১৭ জুলাই এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমরা আশা করছি গ্রামীণফোন ও রবি শিগগিরই  সরকারের পাওনা টাকা দিয়ে দেবে।’ অন্যদিকে গ্রামীণফোন ওই দ্বিতীয় পদক্ষেপকে  ‘জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অযৌক্তিক কৌশল’ হিসেবে আখ্যায়িত এবং যে অডিটের ভিত্তিতে এই পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে

ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করে। একই সঙ্গে সালিসি আইনের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তির আহ্বান জানায় তারা। রবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সব বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিসি আইন ২০০১ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি চাপ প্রয়োগ করে বিতর্কিত দাবির টাকা উদ্ধারের চেষ্টা না করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেই দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে।’

বিটিআরসির তথ্য অনুসারে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে রবির কাছে পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৭৬ টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের পাওনা ১৮৯ কোটি টাকা। আর গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে এনবিআরের পাওনা চার হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এই পাওনা পরিশোধের জন্য বিটিআরসি গত বছর ৩১ জুলাই প্রথম এবং চলতি বছরের গত ১৩ জুন শেষবারের মতো ১০ দিনের সময় দিয়ে সর্বশেষ চিঠি দেয়। আর গ্রামীণফোনকে গত ২ এপ্রিল প্রথম এবং গত ১৩ জুন একই সময় দিয়ে শেষ চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য।

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে গত ২৪ জুলাই বিটিআরসির সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও তৃতীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হয়। এ সম্পর্কে বিটিআরসির একজন কমিশনার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রবি ও গ্রামীণফোন পাওনা পরিশোধ না করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ ও তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে। এ অবস্থায় ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১’-এর ৪৬-এর বিধান মোতাবেক তাদের সেলুলার মোবাইল লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা ৩০ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায়  একই আইনের বিধান মোতাবেক এ বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।  এ ছাড়া গত ১৭ জুলাইয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পাওনা টাকা আদায় না হলে একসময় এই দুই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগও করা হতে পারে।

এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, বিটিআরসি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা