kalerkantho

সবিশেষ

স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে পরিবহনে বিপ্লব!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে পরিবহনে বিপ্লব!

অটোনমাস বা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর সুবিধা-অসুবিধা নিয়েও অনেক তর্ক-বিতর্ক চলছে। এমন গাড়ির নিরাপত্তা ও সীমাবদ্ধতা বিচার করে সব মিলিয়ে ইতিবাচক এক চিত্রই উঠে আসছে।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি কিভাবে দুর্ঘটনা এড়াবে? অসংখ্য ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সড়কের চারদিকে নজর রেখে চলে। এভাবে চোখ-কান খোলা রাখে এমন গাড়ি মানুষের তুলনায় আরো ভালোভাবে বিপদ শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এক স্টেরিও ক্যামেরা সড়কের ওপর বিভাজন রেখা, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর নজর রাখে। রাডার সেন্সর গাড়ির আশপাশে ২০০ মিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। লেজার রশ্মি গাড়ির সামনের ১৮০ ডিগ্রি কোণে কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নথিবদ্ধ করে। পথে বাধাবিপত্তি ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে দূরত্ব মেপে চলে আলট্রাসাউন্ড সেন্সর। নিক্ষেপিত শব্দতরঙ্গ আঘাত করে ফিরে এসে নিখুঁত পরিমাপ করে দেয়। সেই সঙ্গে জিপিএস সিস্টেমের সর্বশেষ মানচিত্র তো আছেই। এত সাজসরঞ্জাম থাকতে তো আর কোনো বিঘ্ন সম্ভবই নয়, তাই না? সমস্যা হলো, কুয়াশা থাকলে মানুষের মতোই ক্যামেরা একই রকম কম দেখতে পায়। প্রবল বৃষ্টি বা তুষারপাত হলে লেজার ও রাডারেও বিঘ্ন ঘটে।

এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রোবট গাড়িগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার রৌদ্রোজ্জ্বল সড়কে চালানো হয়েছে। কিন্তু এমন গাড়ি সেখানেও দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। আচমকা অন্ধকার কোণ থেকে এক পথচারী বেরিয়ে এসে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছে। তবে সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো না।

কম্পিউটারচালিত গাড়িকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে মানুষের মতোই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে হয়। তার জন্য সময় লাগে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি পরিবহনব্যবস্থাকে আরো নিরাপদ করে তুলবে। প্রায় ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ মানুষের ত্রুটি। কম্পিউটারচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে না। কারণ কম্পিউটার গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়ে না, কখনো মাতাল হয় না, ক্রোধে ফেটে পড়ে না।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বদৌলতে গাড়ি চালানোর আনন্দ আর থাকবে না বলে অনেকে নালিশ করছে, কিন্তু তার বদলে যাত্রীরা ভবিষ্যতে মনোরঞ্জনের অন্যান্য সুযোগ পেতে চলেছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

 

 

মন্তব্য