kalerkantho

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে না

► ফাঁকা পড়ে আছে বিট-খাটালগুলো
►বাজার মাতাচ্ছে দেশি গরু

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে না

ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের কড়াকড়ির কারণে ওপার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে গত চার দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোনো গরু আসেনি। গরুশূন্য হয়ে আছে জেলার সীমান্তবর্তী বিট-খাটালগুলো। এ অবস্থায় সীমান্তবর্তী এই জেলার স্থানীয় চাহিদা পূরণেও ভরসা হয়ে উঠেছে দেশি গরু। আর চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়তির দিকে।

কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছর ভারত থেকে বিপুলসংখ্যক গরু দেশে ঢোকে। আর এর বেশির ভাগই আসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে। গত বছরও কোরবানির ঈদের আগে ভারতীয় গরুতে সরগরম ছিল জেলার সরকার অনুমোদিত বিট-খাটালগুলো। অথচ এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিএসএফের কড়াকড়ির কারণে ভারতীয় গরু আমদানি কমে গেছে। মাঝে এক সপ্তাহ আগে শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েক দিনে সাত হাজার গরু দেশে ঢোকে। ভারতের ধুলিয়ান থেকে কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে পদ্মা নদী পেরিয়ে এসব গরু আনা হয় মাসুদপুর খাটালে। এর পর  থেকেই গরু আসা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

বিট-খাটালগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চলতি বছরের শুরু থেকেই ভারতীয় গরু আমদানিতে মন্দাভাব চলছে। ভারতের গরু ব্যবসায়ীরা আগে সীমান্ত এলাকায় এসে গরু পৌঁছে দিয়ে যেত। কিন্তু বিএসএফের বাধার মুখে তারা এখন সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডের ধারেকাছেই আসতে পারছে না। ফলে গরু আমদানি একেবারেই কমে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি শুল্ক করিডরের অধীন সীমান্ত এলাকায় ১০টি বিট-খাটাল চালু রয়েছে। এর মধ্যে জহুরপুর, জহুরপুর ট্যাক, মাসুদপুর ও রঘুনাথপুর বিট দিয়ে কোনো কোনো দিন মাত্র চার-পাঁচটি করে গরু এসেছে। বেশির ভাগ সময়ই বিট-খাটালগুলো থাকছে গরুশূন্য। রঘুনাথপুর

বিটের অংশীদার আব্দুল সবুর জানান, গত চার দিন রঘুনাথপুরসহ আশপাশের কোনো বিট দিয়ে ভারত থেকে একটিও গরু আসেনি। অথচ আগের বছরগুলোতে কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে বিপুলসংখ্যক ভারতীয় গরু এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিভাগীয় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট চার লাখ ৫০ হাজার ৭৯১টি ভারতীয় গরু-মহিষ দেশে ঢোকে। ওই অর্থবছরে কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ঢোকে দেড় লাখেরও বেশি গবাদি পশু। অথচ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারত থেকে এসেছে মাত্র দুই লাখ ৬২ হাজার ৭৪টি গরু, যা গত বছরের অর্ধেক।

এদিকে ভারতীয় গরুর আমদানি না থাকায় বাজার মাতাচ্ছে দেশি গরু-মহিষ। দামও বেশ চড়া। মোটামুটি মাঝারি আকারের কোনো গরু ৭০ হাজার টাকার নিচে মিলছে না। ২০ কেজি মাংসের একটি ছাগলের দাম ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকছে ভেড়া-মহিষেরও।

শিবগঞ্জ উপজেলার খাশেরহাটের ক্রেতা আব্দুল মমিন বলেন, কোরবানির পশুর দাম এবার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ফলে ঈদের আর মাত্র ছয় দিন বাকি থাকলেও কোরবানির পশুর হাটগুলো সেভাবে জমে ওঠেনি। ক্রেতারাও বাজেট মেলাতে ব্যস্ত।

আড়গাড়া পশুর হাটের বিক্রেতা আব্দুল কাদের লতিফ বলেন, ‘একদিকে ভারতীয় গরু আসছে না, অন্যদিকে পশুখাদ্যের উচ্চ মূল্যের কারণে গরু-ছাগলের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ক্রেতাও কমে গেছে। আমার ছোট খামারে পালন করা আটটি গরুর মধ্যে ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি।’

একই হাটের পাইকার আবু মণ্ডল বলেন, ‘ভারত থেকে গরু না আসায় বাজারে আমদানি কমে গেছে। এর প্রভাবে পশুর দামও তুলনামূলক কিছুটা বেশি।’

সোনাইচণ্ডী হাটের ইজারাদার মোমিনুল ইসলাম ও আব্দুর রাকিব গতকাল বলেন, ‘ঈদের মাত্র ছয় দিন বাকি। অথচ হাট এখনো জমে ওঠেনি।’

তবে ভারত থেকে গরু না এলেও কোরবানির পশুর সংকট হবে না বলে জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা এক লাখ ৫৮ হাজার। জেলার খামারিদের কাছেই ৮৭ হাজার ৯৫৪টি গবাদি পশু রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার ৫১০টি গরু ও মহিষ এবং ৩৭ হাজার ৪৪৪টি ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। এর বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেক পরিবারের কাছেই গরু-ছাগল রয়েছে।

 

মন্তব্য