kalerkantho

বাস ট্রেন লঞ্চে ডেঙ্গুমুক্ত ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি

মূল চাপ শুরুর আগেই ভেঙে পড়েছে ট্রেনের সময়সূচি

পার্থ সারথি দাস   

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাস ট্রেন লঞ্চে ডেঙ্গুমুক্ত ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি

ডেঙ্গুমুক্ত ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি চলছে রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। আজ বুধবার থেকে আগাম টিকিটে ট্রেনে ঈদ যাত্রা শুরু হবে। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ঈদ যাত্রীদের মূল স্রোত শুরু হবে। তবে পথের ঝামেলা এড়াতে চলতি মাসের শুরুতেই অনেকে ধাপে ধাপে পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনালে মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়। তার আগের দিন সোমবার কমলাপুর রেলস্টেশনের ওয়াশফিটে ট্রেনে মশা নিধনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, ‘আমরা চারটি ফগার মেশিন কিনেছি। তার মধ্যে ঢাকা স্টেশন ও আশপাশের জন্য দুটি, একটি তেজগাঁও এবং অন্যটি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের জন্য কেনা হয়েছে। গত ২ আগস্ট মশা নিধন অভিযান শুরু হয়েছিল। গত সোমবার আমি কমলাপুরের ওয়াশফিটে গিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচিটি প্রত্যক্ষ করেছি।’

গতকাল সকালে কমলাপুরে ওয়াশফিটে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন ট্রেনের কোচ পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি মশা মারার ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে।

সদরঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার থেকে সদরঘাটে যাত্রী ওঠার আগেই প্রতিটি লঞ্চে মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। সদরঘাটে ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিত্সার জন্য তিনটি ক্যাম্পও স্থাপন করা হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে দল গঠন করে তদারকি করা হচ্ছে। সদরঘাট টার্মিনালও মশামুক্ত রাখতে নিয়ত চেষ্টা করা হচ্ছে বলে এ কর্মকর্তা জানান।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ‘আমরা চারটি ফগার মেশিন কিনেছি। সায়েদাবাদসহ চারটি বাস টার্মিনালে দিনে দুইবার ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। ঈদ যাত্রায় ডেঙ্গু আতঙ্কমুক্ত করতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।’

গতকাল সকাল ১১টায় মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, এনা পরিবহনসহ কয়েকটি বাসে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। সেখানে ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য যাত্রীদের ভিড় ছিল। এনা পরিবহনের যাত্রী সদর আলী বলেন, ‘ভিড় শুরুর আগেই ময়মনসিংহ যেতে চাই।

দেরিতে হলেও বাসে মশা মারার উদ্যোগ নেওয়ায় ভয় কমেছে।’   

আগামী ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু ১১ আগস্ট রবিবার। তার আগে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ঈদে বাড়ি যাওয়ার মূল স্রোত শুরু হচ্ছে মূলত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার। তবে গতকালও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ছেড়েছে প্রচুর যাত্রী। গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে জানা যায়, এরই মধ্যে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের সময়সূচি ভেঙে পড়েছে। রংপুর যেতে যাত্রীদের রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই ঘণ্টা। বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গতকাল বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির বিলম্ব ছিল দুই ঘণ্টা ৩২ মিনিট।

ঢাকা থেকে চিলাহাটি যেতেও কমলাপুরে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৫০ মিনিট। এটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল গতকাল সকাল ৬টায়। ছেড়েছে সকাল ছয়টা ৫০ মিনিটে। বিকেল ৪টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত ট্রেনটির বিলম্ব ছিল এক ঘণ্টা ৩৭ মিনিট।

খুলনা যাওয়ার জন্য সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছাড়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেরিতে। বিকেল পর্যন্ত ট্রেনটির যাত্রা বিলম্ব ছিল দুই ঘণ্টা সাত মিনিট। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটের সুবর্ণ এক্সপ্রেস সবচেয়ে কম দুই মিনিট দেরিতে ছেড়ে যায় কমলাপুর থেকে।

রংপুর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুল হক গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উত্তরের বিভিন্ন রেলপথ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি ট্রেন ঢাকায় আসতে বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া কোচ নষ্ট থাকায় তা প্রতিস্থাপনে দেরি হওয়ায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়তে বিলম্ব হয়।

মন্তব্য