kalerkantho

২০২৫ সালের পর ইট নয়

সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ব্লক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ব্লক

সরকারের যেসব উন্নয়ন প্রকল্পে ইট ব্যবহার করা হয়, চলতি বছর থেকে সেসব প্রকল্পে ১০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পরের বছর ২০ শতাংশ, এর পরের বছর ৩০ শতাংশ এভাবে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি কাজে পুরোপুরি ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। একই বছর পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে ইটের ব্যবহার। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

জানতে চাইলে পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ মোহসীন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশে বায়ুদূষণের প্রধান কারণ ইটভাটা। ইটভাটায় কাঠ ও কয়লার ব্যবহার হচ্ছে। দেশে ইটভাটার সংখ্যা বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে কাঠ ও কয়লার ব্যবহারও বাড়ছে। এতে করে বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়ছে। আমরা বায়ুদূষণের মাত্রা কমিয়ে আনতে সরকারি কাজে সিমেন্টের তৈরি ব্লক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২৫ সাল নাগাদ সরকারি কাজে ইট ব্যবহার বন্ধ করা হবে।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, সিমেন্টের তৈরি একটি ব্লক ৫টি ইটের সমান। প্রতিটি ইটের দাম ১০ টাকা করে পাঁচটি ইটের দাম পড়ে ৫০ টাকা। অন্যদিকে সিমেন্টের তৈরি একটি ব্লকে খরচ পড়ে ৪০ টাকা। এই খরচ আরো কমানো সম্ভব। সিমেন্টের তৈরি ব্লক পরিবেশবান্ধব। তাই সরকারি কাজে ধীরে ধীরে ইটের ব্যবহার কমিয়ে আনা হবে। একসময় তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তখন সরকারি কাজে শুধু ব্লক ব্যবহার করা হবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার ইটভাটার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। তাদের মতামত জানতে চাওয়া হবে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এ বছর সরকারি কাজে যেসব টেন্ডার হবে যেখানে ইট ব্যবহার হয়, সেখানে বলা হবে ১০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার করতে।

পরিবেশমন্ত্রী জানান, দেশে এখন সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ইটভাটা আছে। এসব ইটভাটায় বছরে ২৩০ কোটি ইট উত্পাদন হয়। আর মাটি ব্যবহার হচ্ছে ৩৩৫ কোটি ঘনফুট। কৃষি জমির ওপরিভাগের মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরির কারণে কৃষি জমিতে উত্পাদন কমে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পুরনো পদ্ধতিতে ইটভাটা বন্ধ করে দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে যেতে হবে। নতুন পদ্ধতিতে যাওয়া এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য