kalerkantho

আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে/দুয়ার কাঁপে ক্ষণে ক্ষণে’ শ্রাবণ-বর্ষণে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন পেয়েছিলেন মুক্তির ডাক। শ্রাবণের আজকের এই দিনে তিনি চলে গেছেন সবাইকে কাঁদিয়ে। আজ মঙ্গলবার, ২২শে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। কবিগুরু লিখেছিলেন, ‘বর্ষাকালে আমি আত্মা চাই, বসন্তে আমি সুখ চাই।’ কবির আত্মা অমৃতলোকে চলে গেছে এমনই এক বর্ষায়, কিন্তু বাঙালি প্রতিদিনই তাঁকে স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ বাংলা একাডেমিতে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে একক বক্তৃতা করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচনায় বাঙালির যাপিত জীবন, ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে যেমন মেলে ধরেছেন, তেমনি বাঙালির চিরদিনের হাসি-কান্না আনন্দ-বেদনারও রূপকার তিনি। মানুষের এমন কোনো মানবিক অনুভূতি নেই, যা রবীন্দ্রনাথের লেখায় পাওয়া যায় না। তাঁর সম্পর্কে কবি দীনেশ দাশ লিখেছেন, ‘তোমার পায়ের পাতা সবখানে পাতা।’ বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যলালিত দর্শন ও সাহিত্য রবীন্দ্র রচনার মধ্য দিয়ে বিশ্বসাহিত্য সভায় পরিচিতি পায়। বাংলা ভাষা ও বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে তাঁর মধ্য দিয়ে।

রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক সৃজনশীলতা সাহিত্য ও শিল্পের প্রায় সব কটি শাখাকে স্পর্শ করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে তাঁর ভাবনাও তাঁকে অত্যন্ত উঁচু স্থানে নিয়ে গেছে। সামাজিক উন্নয়ন ও গণশিক্ষার যে তৎপরতা আমরা এখন লক্ষ করি, রবীন্দ্রনাথ সেই সময় নওগাঁর পতিসর ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে সে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে দেশজ আদর্শ লালিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিনিকেতন। তিনি ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ আমাদের জাতীয় সংগীত। ভারতের জাতীয় সংগীতও তাঁরই রচনা। তিনিই একমাত্র কবি, যিনি দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। তাঁর সাহিত্যের আবেদন বিশ্বজনীন। তাঁর গান বাঙালির নিত্যদিনের জীবনচর্চায় মিশে আছে গভীরভাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা