kalerkantho

রেলওয়ে থানায় গৃহবধূকে ধর্ষণ!

ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দলবেঁধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

খুলনা অফিস   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেলওয়ে থানায় গৃহবধূকে ধর্ষণ!

খুলনায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে তিন সন্তানের জননীকে (৩০) ধর্ষণের পর পাঁচ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী নিজেই খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ফুলতলার বিচারকের কাছে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত শুক্রবার রাতে জিআরপি থানাহাজতে ওই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওসি ওসমান গনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফেনসিডিলের  মামলা থেকে রক্ষা পেতে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ওই গৃহবধূকে মহিলা এসআই ও কনস্টেবলরা পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে। থানায় রাতে আটজন পাহারায় থাকে। সেখানে এ ঘটনা সম্ভব নয়।

এদিকে ঘটনা তদন্তে রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদকে সভাপতি করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। গতকাল সোমবার পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর বড় বোন জানান, তাঁর বোনের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। বাপের বাড়ি খুলনার ফুলবাড়ী গেট এলাকায়। তাঁদের মা খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। মাকে দেখতে তাঁর বোন খুলনায় আসছিলেন। তিনি নিজেও অসুস্থ থাকায় বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) যশোরে ডাক্তার দেখাতে যান। পরদিন শুক্রবার খুলনাগামী কমিউটার ট্রেনে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাঁকে মোবাইল ফোনসেট চুরির অপরাধে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে জিআরপি পুলিশের ওসি ওসমান গনি পাঠান তাঁকে ধর্ষণ করেন। এরপর আরো চার পুলিশ ধর্ষণ করে। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ তাঁকে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।

তিনি আরো জানান, আদালতে বিচারকের সামনে নেওয়ার পর তাঁর বোন জিআরপি থানায় তাঁকে গণধর্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর বিচারক তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন,  ‘ওসি তাঁদের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিচ্ছেন। না হলে বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা ন্যায়বিচার চাই।’

ওই গৃহবধূর দুলাভাই জানান, শুক্রবার তাঁর শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে ওসি ওসমান গনি পাঠান প্রথমে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এরপর আরো চার পুলিশ পালাক্রমে তাঁকে ধর্ষণ করে। পরদিন তাঁকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় বলে শ্যালিকা তাঁদের জানিয়েছেন।

রবিবার আদালতের নির্দেশে ওই গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে ওই দিন পরীক্ষা হয়নি। গতকাল সোমবার একই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। 

পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘খুলনা রেলওয়ে থানাহাজতে রেখে ছয়-সাতজন পুলিশ তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও মারধর করে—মর্মে খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দরখাস্ত করেন। আদালত তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তাঁকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাঁকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাটি সরেজমিন অনুসন্ধানপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী সাত দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী জানান, ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের গাইনি চিকিৎসকরা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।

ফুলতলা জিআরপি থানার একটি সূত্র জানিয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগের রাতে খুলনা রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এসআই নাজমুল হাসান, কনস্টেবল মিজান, হারুন, মফিজ, আব্দুল কুদ্দুস, আলাউদ্দিন, কাজলসহ বেশ কয়েকজন দায়িত্বে ছিলেন।

মন্তব্য