kalerkantho

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি

বিচারের মুখোমুখি খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচারের মুখোমুখি খালেদা

ফাইল ছবি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াউর রহমান মামলাটি বিচারের জন্য অন্য আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।

গত ২০ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত। গতকাল ওই মামলায় পরোয়ানা তামিলসংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়া গত ১৮ জুন হাইকোর্ট থেকে এ মামলায় জামিন পেয়েছেন। জামিনসংক্রান্ত আদেশ নিম্ন আদালতে পৌঁছনোতে পরোয়ানাসংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদনের দরকার নেই। নিয়ম অনুযায়ী আসামি মামলায় হাজির হলেই মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়। এখন যেকোনো একটি আদালতে তা পাঠানো হবে। এরপর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হবে। এর আগে গত ২৯ জুলাই ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলাও বিচারের জন্য স্থানান্তরের নির্দেশ দেন একই আদালত।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব। জেনারেল জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ায় এ দেশের জনগণ যুদ্ধে নেমেছিল।’

ওই অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে চলছে দুর্নীতি ও লুটপাট। দলীয় লোকদের জঙ্গি বানিয়ে নিরীহ লোকজনকে হত্যা করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুর বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে লুটপাট ও হত্যা করা হচ্ছে। যেমন পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলসহ ভালো ভালো লোককে গ্রেপ্তার, গুম এবং হত্যা করানো হচ্ছে।’

এসব বক্তব্য দেওয়ায় ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে শাহবাগ থানাকে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গত বছরের ৩০ জুন শাহবাগ থানা প্রতিবেদন দাখিল করে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে আদালতকে জানান।

আদালত এ মামলায় প্রথমে খালেদা জিয়াকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন; কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় বা তাঁর আইনজীবীরা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

উল্লেখ্য, দুটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া এখন কারা হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নাইকো দুর্নীতি মামলা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় নাইকো মামলার শুনানি আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯-এ নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে হাজির না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।

এ মামলায় অন্য আসামিদের পক্ষে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি এর আগে কয়েকটি তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি বাকি রয়েছে। এর পর থেকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করায় আর শুনানি হয়নি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টসংক্রান্ত দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। গত বছরো ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই (এক বছরের বেশি সময়) তিনি কারাগারে।

মন্তব্য