kalerkantho

সবিশেষ

ছায়াপথ মুচড়ে আছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছায়াপথ মুচড়ে আছে

পাঠ্যবইয়ে কিংবা বিজ্ঞানবিষয়ক জনপ্রিয় সব বইয়ের পাতায় আমাদের ছায়াপথকে এত দিন যেভাবে সমতল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আসলে তেমনটা নয়। মিল্কিওয়ে নামের এ ছায়াপথ আদতে খানিকটা বাঁকানো ও মোচড়ানো। পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে এমন দাবি করেছেন।

ছায়াপথের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রগুলোর ওপর গবেষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এসব নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব নির্ণয় করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, সেগুলো একই সমতলে অবস্থিত নয়।

ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডরটা স্কাওরন ও তাঁর সহকর্মীরা মিল্কিওয়ের সঠিক চিত্র পাওয়ার লক্ষ্যে ছায়াপথটির উজ্জ্বলতম নক্ষত্রগুলোকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনেন। এসব নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্য আমাদের সৌরজগতের একমাত্র নক্ষত্র সূর্যের ঔজ্জ্বল্যের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। ছায়াপথের অন্য প্রান্ত থেকেও এগুলো দেখা সম্ভব। এগুলোর ঔজ্জ্বল্য এতটাই বেশি যে নিয়মিত ব্যবধানে নক্ষত্রগুলোর নির্দিষ্ট হারের কম্পন পৃথিবী থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। এ কারণেই নক্ষত্রগুলোর পরস্পরের দূরত্ব মাপতে পেরেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

ড. স্কাওরনের গবেষণাধীন বেশির ভাগ নক্ষত্র চিহ্নিত করার কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে ‘অপটিক্যাল গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং এক্সপেরিমেন্ট’ শীর্ষক পোলিশ প্রকল্পের আওতায়। চিলির দক্ষিণাঞ্চলীয় আতাকামা মরুভূমি থেকে কাজটি করা হয়। প্রকল্পের এক বিজ্ঞানী প্রোজেমাক ম্রজ জানান, তাঁদের গবেষণার ফল বিস্ময়কর। তিনি বলেন, ‘আমাদের (গবেষণার) ফল বলছে, মিল্কিওয়ে ছায়াপথ সমতল নয়। ছায়াপথটি এর কেন্দ্র থেকে অনেকটাই বাঁকানো ও মোচড়ানো। অতীতে উপছায়াপথের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার কারণে, আন্ত ছায়াপথের গ্যাস অথবা অদৃশ্য পদার্থের (ডার্ক ম্যাটার) কারণে ছায়াপথ বেঁকে গিয়ে থাকতে পারে।’

বইয়ের পাতায় আমাদের ছায়াপথকে এত দিন ধরে অবশ্য ডিস্কের মতোই সমতল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছায়াপথকে সমতল হিসেবে উপস্থাপনের ভিত্তি হলো ছায়াপথের আনুমানিক আড়াই শ কোটি নক্ষত্রের মধ্যে মাত্র ২৫ লাখ নক্ষত্রের ওপর পরিচালিত পর্যবেক্ষণ। সমতলীয় ছায়াপথের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নতুন তত্ত্ব উপস্থাপন করেছেন। ড. স্কাওরন বলেন, ‘মিল্কিওয়ের অভ্যন্তরীণ গঠন ও ইতিহাস এখনো আমাদের জানাবোঝার অনেক বাইরে। এর আংশিক কারণ হলো ছায়াপথের বাইরের দিকের নক্ষত্রগুলোর দূরত্ব পরিমাপ করা খুব কঠিন।’

এ কঠিন কাজই করেছেন ড. স্কাওরন ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের গবেষণার ভিত্তিতে সায়েন্স শীর্ষক বিজ্ঞান সাময়িকীর প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে মিল্কিওয়ের নতুন ত্রিমাত্রিক চিত্র। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য