kalerkantho

অটোরিকশা নিয়ে বিপাকে রাসিক

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অটোরিকশা নিয়ে বিপাকে রাসিক

রাজশাহী নগরীতে বর্তমানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ৮০ হাজার। ছোট্ট শহরটি অটোরিকশার চাপে নাকাল। ভোরের আলো ফুটতেই রাজশাহী নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলি চলে যায় অটোরিকশার দখলে। নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, রেলগেট, বন্ধ গেট, কাদিরগঞ্জ মোড়, বর্ণালীর মোড়, লোকনাথ স্কুল মার্কেট মোড়, রাজশাহী কলেজ গেট, সোনাদীঘির মোড়, আলুপট্টির মোড়, কাজলা মোড়, বিনোদপুর বাজার, সালাবাগান বাজার, নওদাপাড়া বাজার ও কোর্ট বাজারে দিনভর অটোরিকশার জট লেগেই থাকে। বিপুল এই অটোরিকশার জট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। আর নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী সিটি করপোরেশন দুই রঙের অটোরিকশা দিনের পৃথক সময়ে চালানোর উদ্যোগ নিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বারবার সময় বেঁধে দিয়েও লাগাম টানতে ব্যর্থ হচ্ছে রাসিক। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে গত জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেও এখনো সেটি কার্যকর হয়নি। আবার চালক ও অটোরিকশা নিবন্ধন করতে রাসিকের অনলাইনে আবেদন করতে বলা হলেও এ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে মাত্র দুই হাজার ৯০০টি। চালকদের অসহযোগিতার ফলে রাসিকের উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

ব্যাটারিচালিত তিন শ্রেণির অটোরিকশা চলে রাজশাহীতে। এর মধ্যে আটজন যাত্রীবাহী অটোরিকশা রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার এবং তিনজন ও দুজন যাত্রীবাহী ছোট অটোরিকশা রয়েছে আরো প্রায় ৪৫ হাজার। সব মিলিয়ে ৮০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করছে ছোট্ট এই নগরীতে। এর মধ্যে ২০১১-১৩ সালে ১৪ হাজার ২৬২টি অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়। এরপর আর নিবন্ধন দেওয়া না হলেও সব অটোরিকশায় সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন নম্বর দেখা যায়। অবশ্য অটোরিকশার নীতিমালা তৈরি করে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নতুন করে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, আগের নিবন্ধন বাতিল করা হলেও চালকরা আগের ভুয়া নিবন্ধন দিয়েই চালাচ্ছে অটোরিকশা। আগে যে অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশ অকেজো হয়ে গেছে। অথচ ওই নিবন্ধন দিয়েই নগরীতে চষে বেড়াচ্ছে ৮০ হাজার অটোরিকশা। অভিযোগ রয়েছে, সিটি করপোরেশনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা পুরনো লাইসেন্সের নম্বর বিক্রি করছেন অবৈধভাবে। আবার একই নম্বরে একাধিক অটোরিকশাও দেখা যায় রাস্তায়। এ অবস্থায় নিবন্ধন না নিয়েই দিন দিন বাড়ছে অবৈধ অটোরিকশা।

রাজশাহী নগরীর ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে অটোরিকশা আর অটোরিকশা। সাহেববাজারে অটোরিকশার জট ছাড়াতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয়েছে কমিউনিটি ট্রাফিক সদস্যদের। এভাবে পুরো শহরই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে অটোরিকশার দাপটে।

সাহেববাজার এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আকবর আলী মোল্লা বলেন, ‘সেই ভোর থেকে শুরু হয় অটোরিকশার উৎপাত। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। অটোরিকশার চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারীসহ স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের।’

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘অটোরিকশার চালকরা অনেকটা বেপরোয়া। এদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রচুর। আর অতিরিক্ত আটোরিকশার কারণে যানজট তো লেগেই থাকছে।’ 

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা যানবাহন হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত শিথিল করা হয়েছে। তবে দ্রুতই দুই শিফটে দুই রঙের অটোরিকশা চলাচলে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব।’

তিনি জানান, গত ১ জুলাই থেকে নগরীতে দুই শিফটে কলাপাতা ও পিত্তি রঙের অটোরিকশা চালু করার কথা ছিল। ওই দিন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন দুই শিফটের অটোরিকশা উদ্বোধনও করেছিলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত নিবন্ধনের জন্য মাত্র দুই হাজার ৯০০টি আবেদন জমা পড়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘দ্রুতই নগরীর অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে দুই শিফটে (সকাল-দুপুর) অটোরিকশা চালু কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর জন্য সব প্রক্রিয়া চলছে। চালক ও অটোরিকশার নিবন্ধনও এগিয়ে চলছে। যারা এর আওতায় আসবে না, তাদের অটোরিকশা চলতে দেওয়া হবে না।’

মন্তব্য