kalerkantho

এআরএফের প্রতিবেদনে স্থান পেল ‘রোহিঙ্গা’

মেহেদী হাসান   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এআরএফের প্রতিবেদনে স্থান পেল ‘রোহিঙ্গা’

আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) প্রতিবেদনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিয়ানমার ও আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলো ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এড়িয়ে চললেও গত শুক্রবার ব্যাংককে এআরএফ উপলক্ষে প্রকাশিত ‘এআরএফের বার্ষিক নিরাপত্তা পূর্বাভাস ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এসেছে অন্তত ছয় বার। ২৬তম এআরএফের চেয়ারম্যান হিসেবে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদউইনাই ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন।

আসিয়ানের ১০টিসহ মোট ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের ফোরাম এএরএফের প্রতিবেদনে ‘মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম’ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সাড়া প্রদানবিষয়ক এআরএফের বিবৃতি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সহায়তাবিষয়ক আসিয়ানের চুক্তি ইত্যাদির আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে এই অঞ্চলে সম্ভাব্য নতুন দুর্যোগে সাড়া দেওয়া ছাড়াও রোহিঙ্গা সংকটের (মিয়ানমার ও বাংলাদেশ) এবং মিন্দানাওয়ে (ফিলিপিন্স) সংঘাতের প্রভাবের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি মালয়েশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়ায় প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা আছে। তাদের সবাই জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থায় (ইউএনএইচসিআর) নিবন্ধিত নয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়ার দৃষ্টিতে, রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠী ইস্যুটি কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বরং এটি ক্রমেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে উঠছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য উর্বর ক্ষেত্র হওয়ার আশঙ্কার কারণেও মালয়েশিয়া উদ্বিগ্ন। রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্ভোগ সন্ত্রাসী তৎপরতায় কাজে লাগানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা আছে। সন্ত্রাসের মূল উৎপাটনের গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারকে এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত।’

প্রতিবেদনের আরেকটি অনুচ্ছেদে রাখাইন রাজ্যে নাগরিকত্বের অধিকারবঞ্চিত রোহিঙ্গাদের প্রতি নিউজিল্যান্ডের সহায়তার কথা স্থান পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় ১০ লাখ লোকের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ায় নিরাপত্তা ও মানবিক প্রভাব বিষয়ে ভারত খুবই সচেতন রয়েছে। ভারত মনে করে, এ সংকটের অর্থনৈতিক চাপ বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির ওপর পড়ছে। ভারত এরই মধ্যে চার দফা ত্রাণ পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করার পাশাপাশি ভারত এই মানবিক বোঝা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করতে এবং বাস্তুচ্যুত সব সম্প্রদায়ের সদস্যদের রাখাইনে তাদের বাড়িঘরে ফিরতে সহায়তা করতে রাখাইন রাজ্যে আর্থ-সামাজিক উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেলনা পিস্তল ব্যবহারের বিষয়ে সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে। খেলনা পিস্তলকে উচ্চ মাত্রার সক্ষমতা সম্পন্ন পিস্তলে পরিণত করা হচ্ছে। ‘ত্রি ডি প্রিন্টেড’ অস্ত্রগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। কিছু ব্যক্তি এ ধরনের অস্ত্রকে অপরাধের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে—এমনটি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে নজর দিতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ ধরনের ‘অস্ত্রের’ ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে কথিত বিমান ছিনতাই চেষ্টা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এআরএফের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার। নিরাপত্তা, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভারত নিবিড়ভাবে কাজ করছে। পুরো অঞ্চল এর সুফল পাবে। বাংলাদেশকে ভারতের ঋণ সহায়তার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মন্তব্য