kalerkantho

‘যুবনেতা’ নেই যুবলীগে বয়সসীমার পক্ষে মত

চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে

তৈমুর ফারুক তুষার   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘যুবনেতা’ নেই যুবলীগে বয়সসীমার পক্ষে মত

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৩ বছর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) প্রটোকল অনুযায়ী ৬০ বছর থেকে মানুষের বৃদ্ধকাল শুরু হয়। কিন্তু বয়সের এ সীমারেখার ধার ধারে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

যুবলীগের তরুণ নেতাদের মতে, প্রবীণরা যুবলীগের নেতৃত্বে থাকার কারণে তরুণ ও যুবকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার মতো যুববান্ধব কর্মসূচি নেওয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকছে যুবলীগ। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মেলাতে যুবলীগের আগামী কাউন্সিলে তরুণ নেতাদের মূল দায়িত্বে আনা প্রয়োজন। যুবলীগ করার বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৬০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা উচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের বয়স ৬১ বছর। তিনি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। যুবলীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সামসুল আবেদীন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। সত্তরের কাছাকাছি সামসুল আবেদীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম যখন যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন তখনো সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাদ, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, আব্দুস সাত্তার মাসুদসহ বেশির ভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের বয়সই ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।

যুবক ও প্রবীণদের বয়সসীমার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঠিক কোন বয়সটাকে যুবক হিসেবে ধরা হবে তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বিভিন্ন বয়সকে যুবক হিসেবে ধরে থাকে। কেউ ১৫, কেউ আবার ২৪ থেকে যুবক ধরে থাকে। সাধারণত ৪০ বছর পর্যন্ত বয়সকে যুবক ধরা হয়। আর ৬০ বছরের পর থেকে প্রবীণকাল শুরু হয়। আন্তর্জাতিকভাবেও ৬০ বছরের পর থেকেই প্রবীণকালের শুরু ধরা হয়।’

যুবলীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি থেকে শুরু করে সংগঠনটির প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু, মোস্তফা মহসীন মন্টু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূরুল মজিদ হুমায়ূন, জাহাঙ্গীর কবির নানক কেউই ষাটোর্ধ্ব বয়সী যুবনেতা ছিলেন না। তাঁরা বেশির ভাগই ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে যুবলীগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওই নেতাদের সময়েই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি প্রতিকূল সময় মোকাবেলা করেছে। অথচ এখন অনুকূল সময়েও তরুণ নেতাদের মূল্যায়ন না করে ষাটোর্ধ্ব নেতাদের দিয়ে যুবলীগ পরিচালনা করা হয়।

যুবলীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা যেখানে ৬০ বছর সেখানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পান ষাটোর্ধ্ব বয়সী নেতারা। এতে তরুণ নেতারা যুবলীগের রাজনীতিতে আসার আগ্রহ হারান। আবার ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও যুব সংগঠনে জায়গা পান না। ছাত্রলীগের বিগত বেশ কয়েকটি কমিটির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে সাংগঠনিক পদহীন অবস্থায় আছেন। অথচ ছাত্রলীগ করার সুবাদে এসব নেতার সারা দেশে পরিচিতি ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। প্রবীণদের বদলে ওই সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন লাভবান হবে।

সংগঠনের একাধিক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শেষের দিকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন যদি অক্টোবরে হয় তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যুবলীগের সম্মেলন হবে। এ সম্মেলনে ৬০ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের কমিটিতে না রাখার দাবি তুলবেন তরুণ নেতারা। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬০ বছরের মধ্যে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাদের অনুরোধ জানাবেন তাঁরা।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুবলীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনেকেই দাদা-নানা হয়ে গেছেন। এর পরও তাঁরা যুব সংগঠন করছেন। যেখানে আমাদের গড় আয়ু ৭৩ বছর সেখানে ৭০ বছর বয়স্ক যুবনেতা থাকা দুঃখজনক।’

প্রবীণ নেতৃত্বের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুস সাত্তার মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বয়স যা-ই হোক, মূল কথা হচ্ছে সংগঠন চালিয়ে নিতে পারা। আর নেতৃত্বে কারা আসবেন সে সিদ্ধান্ত দেন আমাদের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নেতৃত্বের বয়সের বিষয়ে আমাদের পর্যায় থেকে কিছু করণীয় নেই।’

২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনে ওমর ফারুক চৌধুরীকে সভাপতি ও হারুনুর রশীদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তিন বছর মেয়াদি ওই কমিটির নেতৃত্বেই সাত বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে যুবলীগ।

মন্তব্য