kalerkantho

বিশ্বসেরা ১০০ বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর ৯ বছরে ৩৬ ধাপ এগিয়ে ৬৪তম

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম বন্দর ৯ বছরে ৩৬ ধাপ এগিয়ে ৬৪তম

কনটেইনার ওঠানামায় বিশ্বের ১০০টি শীর্ষ সমুদ্রবন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান বর্তমানে ৬৪তম। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৭০তম। এক বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দর এগিয়েছে ছয় ধাপ।

কনটেইনার ওঠানামা এবং প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় শিপিং-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’ গত বৃহস্পতিবার রাতে এ তালিকা প্রকাশ করেছে। লন্ডনভিত্তিক এ সাময়িকী বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো শিপিং-বিষয়ক সাময়িকী। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সেরা ১০০টি বন্দরের তালিকা প্রকাশ করে।

তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৯ সালে প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৮তম। ধাপে ধাপে উন্নতি করে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি গত ৯ বছরে ৩৬ ধাপ এগিয়েছে।

৩৬ ধাপ এগোনোর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জ্বল হবে। বিশ্বের শীর্ষ জাহাজ কম্পানি ও কনটেইনার পরিবহন সংস্থাগুলো পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরকে বেছে নিতে আরো বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে বলে মনে করে বন্দর ব্যবহারকারীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রমিক থেকে শুরু করে বন্দর ব্যবহারকারী এবং বন্দর কর্মকর্তাদের সম্মিলিত ও নিরলস প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আমরা এরই মধ্যে অনেক বড় যন্ত্রপাতি যোগ করেছি। ওভার ফ্লো ইয়ার্ড, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, বে টার্মিনালসহ অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। সেগুলো চালু হলে ২০২৫ সালে আমরা বিশ্বের শীর্ষ বন্দরের তালিকায় ৫০তম স্থানের মধ্যে চলে আসব।’

চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৮ সালে কনটেইনার ওঠানামার পরিমাণ ও প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে লয়েডস লিস্ট। প্রকাশিত রিপোর্টে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, আরো একটি ভালো বছর পার করল চট্টগ্রাম বন্দর। ২০১৮ সালে ২৯ লাখ তিন হাজার একক কনটেইনার ওঠানামা করেছে; আর প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

বিদেশি শিপিং লাইন প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইনের (পিআইএল) মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জহীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধাপে ধাপে অগ্রগতির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম বিশ্বে আরো বাড়বে। বিশ্বের সব কনটেইনার ও শিপিং লাইন চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন পরিচালনা করে ৬৪তম অবস্থানের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরকে বেছে নিতে আরো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, উৎসাহিত হবে। সবার চেষ্টায় এ সাফল্য এসেছে, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’

লয়েডস লিস্ট প্রকাশিত রিপোর্টে বিশ্বের ১০০টি শীর্ষ বন্দরের তালিকায় প্রথমে রয়েছে চীনের সাংহাই পোর্ট। ২০১১ সাল থেকে এ বন্দরটি তালিকার শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর। তৃতীয় স্থানে আছে চীনের নিংবো। তালিকার প্রথম ১০টি বন্দরের মধ্যে সাতটিই চীনের বন্দর।

প্রকাশিত তালিকায় ভারতের মুম্বাইয়ের জওয়াহেরলাল নেহরু বন্দরের অবস্থান ২৮তম। তালিকার ৩৬ নম্বরে আছে ভারতের মুন্দা। এ ছাড়া পাকিস্তানের করাচি বন্দরের অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক পরে ৮৩তম।

আর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর যেসব বন্দরের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কনটেইনার পৌঁছায়, সেই বন্দরগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ হচ্ছে ১২তম এবং তানজুম পেলিপাস বন্দর রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরের অবস্থান ২৪তম।

চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসাল্ট (এইচপিসি)। সেখানে বলা আছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সব জেটি টার্মিনাল মিলিয়ে ২০১৯ সালে হবে ২৬ লাখ ৬৬ হাজার একক এবং ২০২০ সালে কনটেইনার ওঠানামা হবে ২৯ লাখ একক। কিন্তু দুই বছর পরের লক্ষ্যমাত্রা ২০১৮ সালেই পূরণ করল চট্টগ্রাম বন্দর।

 

মন্তব্য