kalerkantho

সবিশেষ

বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে জঙ্গলে আশ্রয়কেন্দ্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে জঙ্গলে আশ্রয়কেন্দ্র

মানুষের নানা কার্যকলাপের ফলে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকায় অনেক প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। পেরুতে একটি আশ্রয়কেন্দ্র এমন অনেক প্রাণীর সুরক্ষার  উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে সেই পথ সমস্যায় ভরা।

ইকিটোস যেতে হলে কোনো পাকা সড়ক নেই। বিমান অথবা নৌকাই ভরসা। পেরুর আমাজন বনাঞ্চলের মাঝে এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় চার লাখ। নিয়ম অনুযায়ী জঙ্গলের বাসিন্দারা একমাত্র নিজস্ব প্রয়োজন মেটাতে শিকার করতে পারে। পেরুতে জীবন্ত বা মৃত বন্য প্রাণী নিয়ে ব্যবসা নীতিগতভাবে নিষিদ্ধ। এর পরও বেলেন শহরের কুখ্যাত হাটে সব কিছুই কেনাবেচা চলে।

প্রাণী সংরক্ষণবিদ গুডরুন স্প্যারার বলেন, ‘এখানে ফলমূল, শাকসবজি আছে। কিছুকাল আগে আমি এক সাবেক প্রাণী ব্যবসায়ীকে বলেছিলাম, অবশেষে এবার বেআইনি প্রাণী ব্যবসা কিছুটা কমবে।’ তিনি বলেছিলেন, এখন আর প্রকাশ্যে প্রাণী কেনাবেচা চলে না, বায়না এলে তবেই প্রাণী জোগাড় করে গোপনে বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়।

গুডরুন স্প্যারার প্রায় ৩০ বছর ধরে ইকিটোসে বসবাস করছেন। তিনি লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। সপ্তাহে দুবার তিনি বেলেনের হাটে প্রাণীদের জন্য ফলমূল ও শাকসবজি কেনেন।

ইকিটোসের আশপাশের জঙ্গল ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। কম বয়সী প্রাণী শিকার বাড়ছে। গুডরুন বাজারের দৃশ্যের বর্ণনা করে বলেন, ‘টেবিলের ওপর ছোট কেইমান পড়ে আছে। খুবই ছোট। আগেই মারা গেছে। মাত্র দুই-তিন মাস বয়স হয়েছিল। মানুষ যে এমন প্রাণী কেনে, সেটা সত্যি দুঃখজনক।’

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বংশবৃদ্ধির আগেই এমন সব প্রাণী হত্যা করা হয়, যা বিভিন্ন প্রাণীর বিলুপ্তির প্রধান কারণ। গুডরুন স্প্যারার বলেন, ‘ধূসর রঙের এই মাংস ঠিক কোন প্রাণীর, তা আমি জানি না। জানতে পারলাম এর নাম সাতচাভাকা। খুবই খারাপ বিষয়, কারণ এ প্রজাতির টাপির লুপ্তপ্রায়।’

হাতে সময় কম, প্রাণীরা খোরাকের জন্য অপেক্ষা করছে। ইকিটোসের পশ্চিম বন্দরে নৌকা এসেছে। গুডরুনকে পানির ওপর দিয়ে কিছুটা পথ যেতে হয় রিও নানে থেকে পাদ্রে কোচা পর্যন্ত। সেখানেই প্রাণীদের আশ্রয়কেন্দ্র। প্রাণীদের স্বার্থে জঙ্গলের মধ্যেই সেটি গড়ে তোলা হয়েছে। ২৪ বছর আগে প্রজাপতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল। আজ সেখানে পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীও থাকে।

 

মন্তব্য