kalerkantho

এরশাদের শূন্য আসনে প্রার্থিতা নিয়ে গুঞ্জন

রওশন চান ছেলে সাদকে!

লায়েকুজ্জামান   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




এরশাদের শূন্য আসনে প্রার্থিতা নিয়ে গুঞ্জন

ফাইল ছবি

রংপুর-৩ আসন। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া এই আসনের উপনির্বাচন নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছেন দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এরশাদের স্ত্রী ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন  এরশাদ চান তাঁদের ছেলে সাদ এরশাদ বাবার শূন্য আসনে দলীয় প্রার্থী হোন।

রওশন এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও তাঁর এ চাওয়ার কথা জানিয়েছেন পার্টিতে রওশনঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘সময়মতো এ বিষয়ে রওশন এরশাদ মুখ খুলবেন।’ অন্যদিকে জাতীয় পার্টির রংপুর মহানগর কমিটি এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পার্টির রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির এ আসনে প্রার্থী হবেন। এরশাদ পরিবারের আরো দুই সদস্যও উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁরা হলেন এরশাদের ভাইপো জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত নেতা আসিফ শাহরিয়ার এবং এরশাদের ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ড. হুসেইন মোর্শেদ।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির নেতা আবদুর রাজ্জাকও মনোনয়ন চান। রংপুর জেলা সদরের এই আসনে ১৯৯০ সালের পর থেকে এরশাদই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। তবে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

রংপুরে দলীয় একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে বিএনপিও উপনির্বাচনে লড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেনও মনোনয়ন চাইতে পারেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চান দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান ও রংপুর জেলা কমিটির নেতা রেজাউল ইসলাম। বিএনপির চেয়ে রংপুরে আওয়ামী লীগ অনেক সুবধািজনক অবস্থানে। আর জাতীয় পার্টির প্রধান ভরসা হলো এরশাদের জনপ্রিয়তা এবং তাঁর মৃত্যুজনিত সহানুভূতি। দুটিই ব্যক্তি এরশাদকেন্দ্রিক। জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু জি এম কাদেরই নন, উপনির্বাচনটি জাতীয় পার্টির জন্য এক মহা পরীক্ষা। আসনটি ধরে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে রওশন এরশাদ ছেলের জন্য সিরিয়াস হলে বিপদে পড়বে দল। তবে সবচেয়ে ভালো হতো আসনটিতে এরশাদ পরিবারের বাইরে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে।

জাতীয় পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, উপনির্বাচন নিয়ে বিপদে পড়তে পারে জাতীয় পার্টি। এরশাদের সন্তান হিসেবে সাদ এরশাদ প্রার্থী হওয়ার যৌক্তিক দাবি করতেই পারেন। তবে বাস্তবতা হলো, রংপুরের মানুষের কাছে তাঁর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা নেই। রংপুরে বরং দলের নেতা এস এম ইয়াসির বেশি গ্রহণযোগ্য।

জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে এরশাদের আসন আমাদের ধরে রাখতে হবে। তার জন্য আমি মনে করি, রংপুরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। প্রেস্টিজ ইস্যুতে, অস্তিত্বের প্রশ্নে রাজনীতি দেখা উচিত, আত্মীয়তায় নয়।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সমস্যা হবে না আশা করি। সময় আসুক, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

 

 

মন্তব্য