kalerkantho

কালের কণ্ঠকে মার্ক সুজম্যান

বাংলাদেশের এসডিজি ট্র্যাকার দারুণ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের এসডিজি ট্র্যাকার দারুণ উদ্যোগ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সরকারের এসডিজি ট্র্যাকার দারুণ একটি উদ্যোগ, যা অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার কমাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম রোল মডেল এখন। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অন্যদের সহায়ক হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি বিভাগের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার অ্যান্ড প্রেসিডেন্ট মার্ক সুজম্যান। ফাউন্ডেশনটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ৬০টির বেশি পার্টনারকে আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তা করে থাকে। আইসিডিডিআরবি, ব্র্যাক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে গেটস ফাউন্ডেশন। কৃষি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, স্যানিটেশন, পলিসি ও মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব কাজ পরিদর্শন এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রাধান্য সম্পর্কে জানতে গত বুধবার দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন মার্ক সুজম্যান। এই দুই দিনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সরকারের সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের অংশীদারি কিভাবে আরো জোরালো করা যায়, তা ঠিক করাও ছিল সুজম্যানের সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ বেশ ইতিবাচক—এমন মন্তব্য করে সুজম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশের এসডিজি ট্র্যাকার একটি দারুণ উদ্যোগ, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সরকার এসডিজির ৩৯টি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই ট্র্যাকারের মাধ্যমে সরকার এসডিজি অর্জনে নিজেদের অবস্থান ও উন্নয়ন অর্জন সম্পর্কে জানতে পারে। তবে এসডিজির একটি লক্ষ্য অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এটি বেশ জটিল বিষয়।’ এসডিজি অর্জনে গেটস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে ঘোষণা করেন তিনি।

নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে বাংলাদেশের উন্নীত হওয়ার বিষয়ে সুজম্যান বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। চলমান দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সূচক ছিল দারুণ। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামাজিক নানা সূচকে অগ্রগতির ফলে এই সাফল্য এসেছে। বাংলাদেশ এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে বলে আমি দৃঢ়বিশ্বাসী।’

স্যানিটেশন খাতে বাংলাদেশ উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি অর্জন করেছে জানিয়ে সুজম্যান বলেন, ‘বুয়েটের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে আমরা কাজ করি। এ ছাড়া সিটি ওয়ার্ড ইনক্লুসিভ স্যানিটেশন নামে আরেকটি প্রকল্প রয়েছে, যা বাংলাদেশের ৫০টি শহরে চলমান। তবে স্যানিটেশন খাতে আরো কাজ করার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।’

বাংলাদেশে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ রয়েছে কি না জানতে চাইলে সুজম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহযোগিতা গেটস ফাউন্ডেশন দিয়েছে। এ ছাড়া বড় একটি অংশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। গেটস ফাউন্ডেশন অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বৈষম্যহীন অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে। দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে বিকাশের সঙ্গে কাজ করছি আমরা। তবে বাণিজ্যিক লাভের লক্ষ্যে কোনো কর্মসূচি আমাদের নেই। আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনতে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গেও কাজ করি আমরা।’

বাংলাদেশে পুষ্টি কর্মসূচিতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহযোগিতা করেছে বলে জানিয়েছেন সুজম্যান। তিনি বলেন, ‘সরকারের জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচিতে আমাদের আর্থিক সহযোহিতা রয়েছে। এ ছাড়া এই খাতে ব্র্যাক, ইউনিসেফসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি আমরা। এ পর্যন্ত পুষ্টি খাতে প্রায় ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছি আমরা।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশে সরাসরি কোনো কাজ নেই বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে জানিয়েছেন সুজম্যান। তিনি বলেন, ‘এই সংকট নিরসনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে কাজ করছে।’

বাংলাদেশ চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন মার্ক সুজম্যান। তিনি বলেন, ‘ম্যালেরিয়া, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের নানা দেশেই এসব রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। তবে গেটস ফাউন্ডেশন দীর্ঘমেয়াদি ইস্যু নিয়ে কাজ করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বাংলাদেশ এই সংকট নিরসন করতে পারে বলে মনে করি আমি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা