kalerkantho

এক মামলার দুই রায়

প্রথমে খালাসপরে ১৪ বছরের কারাদণ্ড

বিশেষ প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রথমে খালাসপরে ১৪ বছরের কারাদণ্ড

মেয়েকে ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে মায়ের করা মামলায় এক দিনেই (গত ২৩ জুলাই) সাত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির জবানবন্দি, উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এবং পরিশেষে রায় ঘোষণা। শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ছালাম খানের দেওয়া এ রায়ে আসামি তুষার দাস রাজকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অথচ ১১ মাস আগে একই বিচারক আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার সাজাপ্রাপ্ত তুষার দাসের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের করা ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

গতকাল শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী একই মামলায় শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের ১১ মাসের ব্যবধানে দুই রকম আদেশ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

হাইকোর্ট বলেন, এখানে সমস্যা হলো আসামি দলিত আর মেয়ের বাবা ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের। উঁচু-নীচু জাতের একটি বিষয় আছে। আমাদের সমাজে তো প্রথা রয়েছে যে এ রকম অসম বিয়ের ঘটনা ঘটলে সমাজচ্যুতির ভয় থাকে। এখানে যদি মেয়ের বাবা এ বিয়ে মেনে নেন এবং তাঁকে সমাজচ্যুত হতে হয় তখন কী হবে, সেটাও দেখতে হবে। যদিও আইনে এ রকম উঁচু-নীচু বর্ণে বিয়েতে কোনো বাধা নেই। একদিকে আইন, অন্যদিকে বাস্তবতা—সব কিছুই বিবেচনা করতে হবে।

এক দিনের মধ্যে মামলার বিচার সম্পন্ন করে রায় ঘোষণার ঘটনায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালত বলেন, একটি নির্দিষ্ট মামলার ব্যাপারে বিচারক সাহেবের এত উত্সাহ কেন? তাঁর কী স্বার্থ? গত ছয় মাসে তাঁর আদালতের পরিসংখ্যান কী, তা দেখা দরকার।

আদালত বলেন, বিচারক (শরীয়তপুরের) তাঁর রায়ে বলেছেন যে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন। বাচ্চা হয়ে গেছে। এটা বলার পর অপহরণের অভিযোগে সাজা দেন কিভাবে? রায়ে যেভাবে বলা হয়েছে, সেখানে তো অপহরণ হতে পারে না।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার্থী ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে সুস্মিতা দেবনাথ অদিতি ভালোবাসার টানে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর দলিত (মেথর) পরিবারের সন্তান এইচএসসি পরীক্ষার্থী তুষার দাস রাজকে বিয়ে করেন। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এ বিয়ে হয়। এর কয়েক দিন পর অদিতির মা বাদী হয়ে রাজের বিরুদ্ধে মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

অদিতির মুখে হাসি : এদিকে গত ৩ মে অদিতির কোলজুড়ে আসে এক কন্যাসন্তান। রাজ কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই এ শিশুকে নিয়ে হাইকোর্টের বারান্দায় ঘুরছিলেন স্বামীর জামিনের জন্য। অবশেষে গতকাল হাইকোর্ট জামিন আবেদন মঞ্জুর করলে তাঁর মুখে হাসি ফেরে।

অদিতি তাঁর মা-বাবাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘অনেক হয়েছে। আর আমাদের হয়রানি করো না। আমি ভালোবেসে রাজকে বিয়ে করেছি। সে কোন সম্প্রদায়ের, তা আমার দেখার দরকার নেই। সে একজন মানুষ। তাই তোমরাও আমার স্বামীকে একজন মানুষ হিসেবে মেনে নাও।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা