kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ঋণে ৯% সুদ প্রসঙ্গে ব্যাংকার্স মিটিংয়ে এমডিরা

আগে ৬ শতাংশ সুদে আমানত লাগবে!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগে ৬ শতাংশ সুদে আমানত লাগবে!

ব্যাংকের মালিকরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সুদ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেননি। বছরজুড়ে নানা অজুহাত দেখিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। সরকারি সংস্থার আমানত পেতে সম্প্রতি ‘নয়-ছয়’ কার্যকর বাধ্যতামূলক করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন ব্যাংকের এমডিরা দাবি করেছেন, ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে হলে এর আগে ৬ শতাংশ সুদে আমানত প্রয়োজন। সরকারি আমানত পেলে পর্যায়ক্রমে ‘নয়-ছয়’ সুদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকের এমডিরা এমন দাবি তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকও মনে করছে, ‘নয়-ছয়’ সুদ রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তারল্য পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে ঋণের সুদহারও ৯ শতাংশে নেমে আসবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের জুলাই থেকে ব্যাংকের মালিকরা ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ (নয়-ছয়) কার্যকর করার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সুদহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন ব্যাংকের মালিকরা। এ জন্য নীতিগত অন্তত চারটি সুবিধা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসবের মধ্যে আছে নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) কমানো, রেপো রেট কমানো ও মেয়াদ বৃদ্ধি, সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা এবং মুনাফার ওপর কর কমানো। এ বিষয়ে ব্যাংকার্স সভায় বলা হয়, নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদহার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হ্রাস পায়নি, যা দুঃখজনক। সভায় ঋণ ও আমানতের সুদহার নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়। এতে দেখা যায়, জুন মাসে ২২টি ব্যাংকের তিন মাস বা তদূর্ধ্ব কিন্তু ছয় মাসের কম সময়ের মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার ৬ শতাংশ এবং ৩৫টি ব্যাংকের সুদহার ৬.৫০ শতাংশ হতে ১১.৫০ শতাংশ। অন্যদিকে জুন মাসে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে ১৬টি ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ, ১৩টি ব্যাংকের সুদহারের নিম্নসীমা ৯ শতাংশ বা এর কম; কিন্তু ঊর্ধ্বসীমা ১৪ শতাংশ এবং ২৭টি ব্যাংকের সুদহারের নিম্নসীমা ৯.৫০ শতাংশ তবে ঊর্ধ্বসীমা ১৭ শতাংশ। বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে চলতি মূলধন ঋণের ক্ষেত্রে ১৫টি ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশ, ১৩টি ব্যাংকের সুদহারের নিম্নসীমা ৯ শতাংশ বা তার কম; কিন্তু ঊর্ধ্বসীমা ১৪.৫০ শতাংশ এবং ২৮টি ব্যাংকের সুদহারের নিম্নসীমা ৯.৫০ শতাংশ তবে ঊর্ধ্বসীমা ১৬ শতাংশ।

ব্যাংকার্স সভায় ব্যাংকের এমডিরা জানান, বিভিন্ন  কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ৬ শতাংশ সুদে আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি সরকারি সংস্থার আমানতও পাওয়া যাচ্ছে না। ৬ শতাংশ সুদে আমানত না পেলে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান এমডিরা।

সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের মালিকরাই সুদহার কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁরাই পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনবেন। এটা রাতারাতি কমানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, সরকারি সব ব্যাংক এবং দুয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক নয়-ছয় সুদহার কার্যকর করেছে। তবে সুদহার কার্যকর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে চাপ সৃষ্টি করবে না। ব্যাংকগুলো বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে তা করবে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। এর কারণ জানতে চাওয়া হয়। ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, জুনে তাদের খেলাপি ঋণ কমে গেছে। তবে খেলাপি ঋণ যেন ১০ শতাংশের নিচে থাকে, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শীর্ষ খেলাপি ও ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সুদহার কমানোর জন্য ব্যাংকগুলো চেষ্টা করছে। পর্যায়ক্রমে তা কমিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়েছে। ফলে ডলার কিনতে হচ্ছে না। সঞ্চয়পত্র কেনায় কঠোরতা আনা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়বে।

 

মন্তব্য