kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

রোহিঙ্গা নিপীড়ন

মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

অবশেষে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর (তাতমাদাও) সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের ওপর জেনোসাইড, জাতিগত নির্মূল, মানবতাবিরোধী অপরাধের সাম্প্রতিক সময়ের হোতা হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের নাম উঠে আসছিল। একই সঙ্গে তাতমাদাওর উপসর্বাধিনায়ক সো উইন, রাখাইনে হত্যাযজ্ঞ বাস্তবায়নের অন্যতম হোতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অংয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গতকাল বুধবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় ওই ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে অংশ নেওয়া মিয়ানমার বাহিনীর দুটি ইউনিটের সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মিয়ানমার বাহিনীর দুটি ইউনিটের সবার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময়ই যুক্তরাষ্ট্র আরো ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে এবার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সপরিবারে নিষিদ্ধ হলো। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার আওতা আরো বিস্তৃত হতে পারে।

জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ফলে মিয়ানমারের ওই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না। তাঁদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এবং সম্পর্কও থাকবে না। এই পদক্ষেপ সামরিক বাহিনীর ওপর বেশ বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাইক পম্পেও গতকাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈদেশিক কর্মকাণ্ড এবং এ সম্পর্কিত কর্মসূচিবিষয়ক আইনে দুর্নীতি বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ব্যক্তিবিশেষ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে বা গোপনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলা হয়েছে তাঁকে। প্রথম কোনো রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষতম নেতৃত্বের ওপর প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার বাহিনীর আচরণ পরিবর্তন ও জবাবদিহিকে উৎসাহিত করার নীতির ওপর পররাষ্ট্র দপ্তর গুরুত্ব দিচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করে, মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক অধিনায়কদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এই লক্ষ্য পূরণে এক ধাপ অগ্রগতি। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের হোতাদের জবাবদিহির জন্য মিয়ানমার সরকার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। মিয়ানমার বাহিনী এখনো দেশজুড়ে নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও এর জ্যেষ্ঠ নেতাদের জবাবদিহি না থাকার উদাহরণ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নির্মূলের সময় রাখাইনের ইন দিন গ্রামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সেনাদের কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন তাতমাদাওর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। অন্যদিকে ইন দিন গ্রামের সেই হত্যাযজ্ঞের তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের পাঁচশ’ দিনেরও বেশি কারাগারে থাকতে হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা