kalerkantho

‘শেষ সম্বল ভিডামাডিও ভাইঙ্গা নিয়া গেলো’

শেরপুরে তীব্র নদীভাঙন

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘শেষ সম্বল ভিডামাডিও ভাইঙ্গা নিয়া গেলো’

‘নিজের বলতে ভিডাবাড়ি হুদ্দা (ভিটেবাড়িসহ) আমার ১০ শতাংশ জমি আছিল। এইনই (এখানে) ঘর কইরা বউ-বাচ্চা নিয়া থাকতাম আর মাইনসের বাড়িত কাম কইরা সংসার চালাইতাম। পুলা-মাইয়াগরে নেহাপড়ার খরচা চালাইতাম। কিন্তু শেষ সম্বল ভিডামাডিডাও নদীয়ে নিয়া গেলো। আইজ আমরা এই পিথিবীতে সবচাইতে অসহায় মানুষ। আমাগর মাতা গোঁজাবার মত জাগা নাই। আমাগরে অহন কিবায় চলবো, পুলাপানডির পড়ালেহার কিবায় কী অবো।’

ভাঙা ভাঙা গলায় কথাগুলো বলছিলেন দিনমজুর আফাজ উদ্দিন মিয়া। চোখ দুটি তাঁর ছলছল করছিল। তাঁর তিন সন্তান স্কুল-কলেজে পড়ালেখা করছে। এর মধ্যেই তিনি নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারালেন। শেরপুরে নকলা উপজেলার চকবড়ইগাছি এলাকায় মৃগী নদীর পারে দাঁড়িয়ে কেবলই নদীর দিকে চেয়ে দেখছিলেন আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছিলেন আফাজ মিয়া।

ওই এলাকার আরেক বিধবা আছিয়া বেগমের ভিটেমাটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘দুই যুগ ধইরা বিধবা হইছি। সোয়ামির ৫ শতাংশ মাডির মদ্দে ঘর কইরা কোনোমতে থাকতাম। খাইয়া না খাইয়া দিন কাডাইতাম। নদীয়ে আমার এইডাও খাইলো। অহন তো আমার মাতা গোজবার মতন জাগাও থাকলো না। আমারে আফনেরা একটা থাকপার বাও (সুবিধা) কইরা দেন।’

গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শাখানদী মৃগীর পানির প্রবল স্রোত বইছে। নদীতীরবর্তী শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চরমধুয়া নামাপাড়া এবং বাছুর আলগা দক্ষিণ পাড়া ও চকবড়ইগাছী গ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রবল ভাঙন শুরু হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের চরমধুয়া নামাপাড়া এলাকার কালাচান, ফয়েজ উদ্দিন, আলমাছ আলী, সদর আলী, আঙ্গুর মিয়া, আজিজুল ইসলাম, কাদির মিয়া, ইউসুফ আলী, পবা মিয়াসহ অন্তত ১৫-১৬টি পরিবার ঘরবাড়িছাড়া হয়েছে। ওই এলাকার কালাচান মিয়া বলেন, ‘আমি এখন কী করমু, কিছুই বুঝতাছি না। নদী আমগরে শেষ কইরা দিছে।’

মৃগী নদীর ভাঙনে বাছুর আলগা দক্ষিণপাড়া ও চকবড়ইগাছী গ্রামের আফাজ উদ্দিন ও আছিয়া বেগমের একমাত্র সম্বল বসতবাড়ির জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকার মোসলেম উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন, দুলাল মিয়া, রজব আলী, হাইতুল্লাহ, লতিফ মিয়া, প্রতিবন্ধী হাফেজা ও বাদল মিয়াসহ বেশি কিছু পরিবারের আবাদি জমি ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা সবাই দিশাহারা হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য