kalerkantho

সবিশেষ
ঐতিহাসিক স্থাপনা

অতিক্ষুদ্র তবু নজরকাড়া

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অতিক্ষুদ্র তবু নজরকাড়া

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় একটি বিশেষ মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি দেশের সবচেয়ে ছোট আকারের মসজিদ। স্থানীয় কারো করো দাবি, বর্তমানে পরিত্যক্ত এই মসজিদ কয়েক শ বছর আগের। তবে মসজিদটির বয়স অত বেশি হবে না বলে দাবি করেছে একটি পক্ষ। বদরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা আকন্দপাড়ায় ঝোপ-জঙ্গলের ভেতরে পুরনো এই মসজিদের অবস্থান।

ছোট ও পাতলা ইটের গাঁথুনিতে নিপুণভাবে তৈরি মসজিদটির গা-জুড়ে দৃষ্টিনন্দন কারুকাজ করা। এই মসজিদের ইমারতটির আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ছয় ফুট সাত ইঞ্চি ও পূর্ব-পশ্চিমে ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি। দেয়ালগুলো ১ ফুট ১১ ইঞ্চি চওড়া। তবে মসজিদের এলাকা ৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি মসজিদটির তিনটি দরজা লক্ষ করা গেছে। আয়তনে এত ছোট মসজিদ দেশের আর কোথাও আছে কি না, তা জানা যায়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গোপালপুর ইউনিয়নের আকন্দপাড়ায় ঐতিহাসিক নান্দিনার দিঘীরপাড় থেকে মাত্র ৩০০ গজের মধ্যেই পুরনো এই মসজিদের অবস্থান। গ্রামের ভেতর একটি বাঁশঝাড়ের ভেতরে বিরাট একটি বটগাছের শিকড়-লতাপাতা আর জঙ্গলে ঢাকা রয়েছে মসজিদটি। ভূতুড়ে এক পরিবেশে রয়েছে মসজিদটি, যাতে এখন কেউ আর নামাজ বা ইবাদত-বন্দেগি করে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারুকার্যখচিত মসজিদটির মিনারসহ ভেঙে পড়েছে এর অবকাঠামোর পুরোটা প্রায়। দেয়াল আঁকরে উঠেছে বিরাট এক বটগাছ। এর ভারে খসে পড়েছে পলেস্তারা। ছোট ও পাতলা আকারের ইটগুলোও খুলে পড়ছে। ভেঙে গেছে উত্তর ও পূর্ব পাশের দেয়াল। মসজিদের কোল ঘেঁষে দুটি কবরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ছোট ইটের গাঁথুনিতে তৈরি প্রাচীন স্থাপত্যের এই নিদর্শনটির পরে আর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অযত্ন-অবহেলা আর সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় বর্তমানে মসজিদটি নিশ্চিহ্নের পথে। মসজিদে প্রবেশের জন্য তিনটি পথ রয়েছে। এত ছোট পরিসরের এই মসজিদে সম্ভবত ইমামসহ তিন-চারজনের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা ছিল। জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান হওয়ায় সেখানে এখন কেউ চলাচল করে না। তবে স্থানীয় কয়েকজন মসজিদটি তাঁদের পূর্বপুরুষের তৈরি বলে দাবি করেন।

মসজিদটি যেখানে অবস্থিত সেই জমির মালিক দাবিদার বাবর আলী (৬১) বলেন, ‘আমার দাদার আমলে নির্মাণ করা হয় মসজিদটি।’ বাবর আলী আরো বলেন, ‘আমার দাদারা ছিলেন চার ভাই। মূলত তাঁরাই ওই মসজিদটি নির্মাণ করেন নামাজ আদায়ের জন্য। বর্তমানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদ দেখতে আসে লোকজন।’

মন্তব্য