kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

উপজেলা আ. লীগে কোন্দল এখনো চরমে

নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পরই বদলে যান শিবগঞ্জের এমপিরা!

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী ও ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ    

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পরই বদলে যান শিবগঞ্জের এমপিরা!

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল এখনো চরমে। নেতাদের বিরোধ এতটাই প্রকট যে কর্মীরা কে কোন গ্রুপের তা নিয়ে প্রায়ই হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় চার বছরে একটি সভাও করতে পারেনি উপজেলা আওয়ামী লীগ। সংকট কাটাতে গত তিনটি সংসদ নির্বাচনে শিবগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু তাতেও কোন্দল মিটছে না।

অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই আচার-আচরণে বদলে যান স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। এমপি হয়ে প্রত্যেকেই দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাইরে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েন দলীয় কোন্দলে। আবার নির্বাচন শেষ হতে না হতেই পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে গড়ে তুলতে এমপির বিরোধিতায় মশগুল হয়ে ওঠেন আগ্রহী প্রার্থীরা। এমপি যা করেন, তার বিপরীতে অবস্থান নেন তাঁরা। এভাবেই চলছে প্রায় ১১ বছর ধরে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১১ বছরে আওয়ামী লীগের তিনজন সংসদ সদস্যের কেউই দলকে গোছানোর কাজ করেননি। বরং ক্ষমতা পেয়ে কোন্দল বাড়িয়েছেন। বর্তমানে শিবগঞ্জে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। গ্রুপগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান এমপি ডা. সামিল উদ্দিন শিমুল, সাবেক এমপি গোলাম রাব্বানী, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক ও শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুল ভোটে হারিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার (অব.) এনামুল হক। তিনি এমপি থাকাকালে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের অনেকের বাড়িঘর। ওই সময় এনামুল দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর সময়ে অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের একটিতেও জয়ী হতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

এরপর ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের এমপি হন গোলাম রাব্বানী। তাঁর সময়ে ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে রাব্বানীকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আতাউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্য পদগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পূরণ করার কথা থাকলেও সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে সেই কমিটিও আর পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েই কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলও। সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে শিমুলের আপন দুই ভাই মিতু ও পলাশের হাতে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীন মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ। একই দিন রাতে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। একই দিনে দুই কমিটির অনুমোদন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরের দিন ১২ মে দুটি কমিটিই স্থগিত করে জেলা আওয়ামী লীগ।

দলের এমন হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুল ইসলাম টুটুল খান বলেন, ‘নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বদলে যাচ্ছেন শিবগঞ্জের এমপিরা। গত পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী। আর বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. শিমুল উপজেলা নির্বাচনে কাজ করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে।’ তবে দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টুটুলসহ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামরা আলাদা বলয় গড়ে তুলেছেন। টুটুলরা চাইছেন, আগামী নির্বাচনে নজরুল ইসলামের ভাই বর্তমানে পুলিশের এসপি নূরুল ইসলাম আগামী সংসদ নির্বাচনে শিবগঞ্জ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পাক। ফলে এমপি শিমুলের নানা কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন দলের এই নেতারা।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের হামলার ভয়ে একসময় শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রাণভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারত না। দলের সেই দুর্দিনে আমি দলকে সুসংগঠিত করেছি।’ তবে শিবগঞ্জ আওয়ামী লীগে কোনো বিরোধ নেই বলে দাবি করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। তাঁর দাবি, শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগ এখন অনেক শক্তিশালী। দলের কার্যক্রমে নিজ ভাইদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

মন্তব্য