kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

নাচে-গানে বর্ষাবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নাচে-গানে বর্ষাবরণ

শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘বর্ষামঙ্গল’ অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করছেন শিল্পীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাত সকাল থেকেই মুখ ভার ছিল আষাঢ়ের আকাশের। কী অপূর্ব রং ও রূপ তার! ধূসর-কালো মেঘে ঢাকা চারদিক। সকালে কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়েছিল। দুপুরে থেমেও গিয়েছিল। বিকেল থেকে আবার থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। সন্ধ্যা নাগাদ ছিল তার রেশ। গতকাল মেঘমেদুর সন্ধ্যায়, ভিজে হাওয়ায় যেন জেগে উঠেছিল আনন্দের রোশনাই। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আষাঢ় ঘিরে এই দিনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ষামঙ্গল শিরোনামের আয়োজন।

আষাঢ়-শ্রাবণ এ দুই মাস বর্ষাকাল। বর্ষাকাল মানে মেঘ, বৃষ্টি, প্রেম, নতুন প্রাণ ও জেগে ওঠার গান। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন ‘এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রুপালি জল কত দিন এসে/ধুয়েছে আমার দেহ—বুলায়ে দিয়েছে চুল—চোখের উপরে/তার শান—স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে,—আবেগের ভরে।’ বর্ষার অনুপম সুরে গেয়ে ওঠে প্রকৃতি, নেচে ওঠে মন। তৃষিত হূদয়ে পুষ্পে-বৃক্ষে, পত্র-পল্লবে নতুন প্রাণের নতুন গানের সুর নিয়ে আসে। সেই বর্ষার সুরে নেচে উঠেছিল শিল্পীরা।

বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় গানের সুর ও নৃত্যের ছন্দ ও কবিতার দীপ্ত উচ্চারণে বর্ষা উদ্যাপন করল শিল্পকলা একাডেমি। আবৃত্তি ও নাচ-গানের অনন্য আয়োজনে বাদল দিনের বরষণই ছিল নৃত্য ও গীতের মূল বিষয়।

গতকাল সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আসরে শিল্পের সুষমা ছড়িয়ে দিয়েছিল কণ্ঠশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীরা। বৃষ্টিধারা ও সংগীতের সুরের অপূর্ব সংমিশ্রণের যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়েই শুরু হয় ‘বর্ষা মঙ্গল’ নামের মনোমুগ্ধকর এই আসর।

এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্যে একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই রূপসী বাংলাদেশ। দুই মাস পর পর ঋতু এসে এ দেশের রূপের সুষমায় ভিন্নতা এনে দেয়। বৈচিত্র্যে ভরা এমন ঋতুর দেশ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তিনি আরো বলেন, ইট-কাঠের যান্ত্রিক এই নগরীর শিশুরা আবহমান বাংলার অনন্য ঋতু বর্ষার সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত। নগরের মানুষের কথা  বিবেচনা করেই আজকের এ আয়োজন।

সন্তানদের ঋতুবৈচিত্র্য উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘আমাদের অসাধারণ ছয়টি ঋতু, কিন্তু শহরে বসবাসে আমরা তা উপভোগ করতে পারি না। ছয়টি ঋতু নিয়ে যেসব শিল্প আমরা নির্মাণ করেছি তা বিশ্বে বিরল। এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিটি ঋতু উদ্যাপনের ঘোষণাও দেন একাডেমির মহাপরিচালক।’

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। গানে গানে স্বাগত জানানো হয় আষাঢ়কে। মন মোর মেঘের সঙ্গী, এসো হে সজল শ্যাম ঘন দেওয়া, অমৃত মেঘের বারি, আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে এবং গহন ঘন ছাইল ইত্যাদি গানগুলো সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করেন একাডেমির নিজস্ব শিল্পীরা। এরপর পরদেশী মেঘ, শাওন গগন ঘোর ঘনঘটা এবং বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে গানের কথায় সমবেত নৃত্য পরিবেশন করবে একাডেমির নৃত্য শিল্পীবৃন্দ। নাচে, গানে ও আবৃত্তিতে বর্ষা ঋতুই যেন মূর্ত হয়ে উঠল সমগ্র মিলনায়তনজুড়ে।

অনুষ্ঠানে একক কণ্ঠে মোহনা দাস গেয়ে শোনান ‘মেঘ বলছে যাবো যাবো’ হিমাদ্রী রায়ের কণ্ঠে গীত হয় ‘সখী বাঁধলো বাঁধলো ঝুল নিয়া’ সোহানুর রহমান পরিবেশন করেন ‘এই মেঘলা দিনে একলা’ সূচিত্র সুত্রধর গেয়ে শোনান ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো’ রোখসানা আক্তার রূপসার কণ্ঠে গীত হয় ‘আষাঢ় মাইসা ভাষা পানি রে’ রাফি তালুকার গেয়ে শোনান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’। রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান পরিবেশন করেন নবনীতা, নজরুলের বর্ষার গান গেয়ে শোনান ইয়াসমীন মুসতারি, আধুনিক গান পরিবেশন করেন রফিকুল আলম এবং লোকগীতি পরিবেশন করে শিল্পী আবু বকর সিদ্দীক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পী কৃষ্টি হেফাজ।

মন্তব্য