kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীকে ওসি

মামলা হলে হবে তোমার নামে ওদের নামে না!

মাগুরা প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলা হলে হবে তোমার নামে ওদের নামে না!

ধর্ষণের পর কেটে গেছে ১৫ দিন। তবু মাগুরার শ্রীপুর থানায় গণধর্ষণের মামলা রুজু হয়নি।  বরং থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান মামলা না নিয়ে মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। তবে ওসি মাহাবুবুর রহমানের দাবি, ‘এটি ধর্ষণ নয়, চাঁদাবাজির ঘটনা বলে শুনেছি।’

গৃহবধূর বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, গত  ২৮ জুন ঘটনার রাতে তাঁর স্বামী পেশাগত কাজে ফরিদপুর জেলায় ছিলেন। রাতের বেলা তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুসন্তানকে নিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় একই গ্রামের দিপুল নামে পরিচিত এক যুবক দরজায় কড়া নাড়লে তিনি দরজা খুলে দেন। এ সময় দিপুল একই গ্রামের মাজেদুল ও আশরাফুল নামে আরো দুই যুবককে নিয়ে ঘরে ঢুকে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শুধু তা-ই নয়, ‘কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে’—এমন অভিযোগ তুলে ধর্ষণকারী ওই তিন যুবক লকার ভেঙে জমির কাগজপত্র, স্বর্ণের দুল, ব্যাংকের দুটি ব্ল্যাংক চেকে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক তাঁর স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরের দিন সকালে তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে শ্রীপুর থানায় গেলে ওসি মাহাবুবুর রহমান তাঁকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন। এমনকি ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য অনুরোধ জানালে তিনি সেই ব্যবস্থা না করে একপর্যায়ে ভয় দেখিয়ে তাঁকে বের করে দেন বলে জানান গৃহবধূ।

গৃহবধূ বলেন, ‘ধর্ষণকারী ওই তিন যুবক সারা রাত আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। অথচ পরের দিন মামলা দিতে গেলে সারা দিন অভুক্ত অবস্থায় থানায় বসিয়ে রেখে ওসি বলেন, ‘ওদের নামে মামলা হবে না। হলে তোমার নামে হবে।’ গৃহবধূর অভিযোগ, ওসি মাহাবুবুর রহমান প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে বাড়িতে পাঠাচ্ছেন ঘটনা মীমাংসা করে ফেলার জন্য। আর মীমাংসা না করলে মিথ্যা মামলার ভয় দেখাচ্ছেন ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ওই তিন যুবক ধর্ষণ করবে কেন? ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর স্বামীর এক বন্ধুর অনৈতিক সম্পর্ক আছে। যে ঘটনা জানতে পেরে ওই যুবকরা ওই রাতে মহিলার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল বলে শুনেছি। ওই মহিলা ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিল, কিন্তু কোনো সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি।’

প্রসঙ্গত, উল্লিখিত ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে গত ১৪ মে সকালে শ্রীপুরের চরশ্রীপুর গ্রামের এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র ধারণের ঘটনা ঘটে। সে সময় এলাকাবাসী দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু শ্রীপুর থানা ধর্ষণের বদলে ধর্ষণকারীদের নামে সিগারেট চুরির মামলা রুজু করে। এ নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করা হয় এবং গত ১৮ জুন ওই দুই যুবককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা