kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

শিবগঞ্জে বিএসএফের গুলি দুই বাংলাদেশি নিহত

বেনাপোল সীমান্তে আহত ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




শিবগঞ্জে বিএসএফের গুলি দুই বাংলাদেশি নিহত

ভারত থেকে গরু আনতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে ফের বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত দুজনের নাম সাদ্দাম হোসেন ওরফে পটল (২৫) ও রয়েল (২২)। এ ছাড়া গরু নিয়ে ভারত থেকে ফেরার সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁর নাম ইসরাফিল ইসলাম (৩০)।

গতকাল ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ওয়াহেদপুর সীমান্তে পটল ও রয়েল নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পটল শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর হঠাৎপাড়ার সাইফুদ্দীন লাওয়ার ছেলে এবং রয়েল একই উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের দোভাগী গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার গভীর রাতে রয়েল, পটলসহ কয়েকজন ভারত থেকে গরু আনতে যায়। তারা ওয়াহেদপুর সীমান্ত এলাকার ১৬/৫ এস নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। পরে গরু নিয়ে ফেরার পথে নূরপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা টের পেয়ে গুলি ছুড়লে রয়েল ও সাদ্দাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে তাঁদের সঙ্গীরা সাদ্দামের মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই হাবিব জানান, মরদেহ নিজ বাড়িতে আনার পর মনোহরপুর বিওপির সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গেলেও পরে আবার ফেরত দেন। তবে রয়েলের মরদেহ কোথায় তা তাঁর আত্মীয়রা কিছু বলতে পারেনি। দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুর রাজিব রাজু ওই দুই বাংলাদেশি নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রয়েলের মরদেহ কোথায় কিভাবে আছে তা জানাতে পারেননি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান খাঁন বলেন, ‘বুধবার রাতে রয়েল, পটলসহ আরো কয়েকজন ভারতে গরু আনতে যায়। গতকাল ভোররাতে গরু নিয়ে ফেরার পথেই ভারতের নূরপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায় বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে রয়েলের মরদেহ ভারতীয় ভূখণ্ডে পড়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। এই ঘটনার চার দিন আগে উপজেলার কিরণগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুলাল (২০) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন।

অন্যদিকে বেনাপোলে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি ইসরাফিল ইসলাম বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আঁচড়া গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।

এর আগে গত ২৭ জুন একই সীমান্তে গুলিতে আহত হয়েছিলেন মনিরুল নামের এক বাংলাদেশি। দুজনই গরু চোরাচালানিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহতের মা জাহানারা বেগম জানান, তাঁর ছেলে ট্রাক চালান। কয়েক দিন ধরে কাজ না থাকায় ইসরাফিলসহ কয়েকজন যুবক অবৈধভাবে ভারত সীমান্তে প্রবেশ করে। ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল তারা। এ সময় পুটখালী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আংরাইল ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ইসরাফিল গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকেন। পরে সীমান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পুটখালী ক্যাম্পের সুবেদার মশিউর রহমান জানান, আহত গরু চোরাচালানিকে প্রথমে শার্শা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশ পাহারায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি জানান, অবৈধ পারাপারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা