kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

মনকষা ভাঙাতে মনাকষা দমমিষ্টি, রসগোল্লা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ

আহসান হাবিব, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনকষা ভাঙাতে মনাকষা দমমিষ্টি, রসগোল্লা

ভোক্তার কাছে শিবগঞ্জের মনাকষা, সাহাপাড়া এলাকার দমমিষ্টি এবং ত্রিমোহনীর সাদা রসগোল্লা মানে লোভনীয় কিছু। দেড় শ বছর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বাজারে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেন অনন্ত লাল সাহা। বংশপরম্পরায় সেই ব্যবসা এখনো অব্যাহত। তবে ৫০ বছর আগে যে মিষ্টির কেজি (রসগোল্লা) ছিল এক থেকে দুই টাকা, ৫০ বছর পরে সেই মিষ্টির ধরন যেমন পাল্টেছে, পাল্টেছে দামও। বর্তমানে শিবগঞ্জের কয়েকটি বাজারে ১৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যায় হরেক রকম মিষ্টি। এসব মিষ্টির মধ্যে রয়েছে লালমন, শাহি চমচম, ঐতিহ্যবাহী আদি চমচম, দুধসর, রসমালাই, রাজভোগ, দমমিষ্টি, রসগোল্লা ইত্যাদি। তবে এখনো রেকর্ড ভাঙতে পারেনি শিবগঞ্জসহ কানসাট, মনাকষা, চককির্তী ও সোনামসজিদ এলাকার মনাকষা, সাহাপাড়া এলাকার দমমিষ্টি এবং চককির্তী ত্রিমোহনী টুলুর সাদা রসগোল্লা।

দেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছে গেছে শিবগঞ্জের মিষ্টি। অর্ডার দিলে বালিশ মিষ্টি বা দুই থেকে পাঁচ কেজি ওজনের (একটি) চমচম বানিয়ে দিতে পারেন শিবগঞ্জের মিষ্টির দোকানি রিপন সাহা ও করুণ কুমার সাহা। শিবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ছোট চমচমের পাশাপাশি পাওয়া যায় বাম্পার চমচম।

শিবগঞ্জে প্রায় দেড় শ বছর আগে অনন্ত লাল সাহা মিষ্টির ব্যবসা শুরু করার পর একই সময়ে মিষ্টির দোকান খোলেন মদন লাল সাহা। পরে শিবগঞ্জ ও মনকষায় বংশপরম্পরায় চলতে থাকে এই ব্যবসা। বর্তমানে মিষ্টির দোকানি রিপন সাহা জানান, তাঁদেরসহ তাঁর অপর চাচা ইন্দ্রভূষণ সাহার ঐতিহ্যবাহী আসল ও সাবেক—আদি চমচম দোকানে দিনে অন্তত ৫ মণ চমচম বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ শিবগঞ্জে এলে

আদি চমচমের প্যাকেট না নিয়ে বাড়ি ফেরে না। তবে আগের কারিগর না থাকায় চমচমের খ্যাতিতে কিছুটা ছেদ পড়েছে।

বিনোদপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক হারুন অর রশিদ টুকু বলেন, ‘মনাকষা বাজারে কালুর মিষ্টি ও দমমিষ্টি, সাহাপাড়ায় জব্বারের দোকানের দমমিষ্টি ও ত্রিমোহনীর টুলুর রসগোল্লা দেশসেরা হবে, আশা করি।’

শিবগঞ্জের স্থানীয় লোকজন মিষ্টি হিসেবে মনাকষা, রসগোল্লা ও দমমিষ্টিকে শীর্ষ তালিকায় রাখে। দুই ঈদে চলে এসব মিষ্টির রমরমা বাণিজ্য। এ ছাড়া পরীক্ষার ফলাফলের সময়ও থাকে এসব মিষ্টির বিপুল চাহিদা।

শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক হোসেনুল হায়দার জানান, সাহাপাড়া বাজারে প্রয়াত জব্বারের দোকানের দমমিষ্টি এবং ত্রিমোহনীর টুলুর সাদা রসগোল্লা এখনো এ অঞ্চলের মিষ্টির পুরনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। স্বাদে এখনো ছেদ পড়েনি।

তবে স্থানীয় লোকজন জানায়, শিবগঞ্জের মিষ্টি মানেই দমমিষ্টি ও রসগোল্লা। তবে বেশির ভাগ দোকানে আসল দুধের ক্ষীর ও মেওয়া দিয়ে মিষ্টি না বানিয়ে কম দামের উপকরণ দিয়ে মিষ্টি বানানোয় স্বাদ আগের মতো মিলছে না। তবে দেশের অন্যান্য জেলায় তৈরি মিষ্টির চেয়ে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবগঞ্জের দমমিষ্টি ও চমচম।

মিষ্টির দোকানিরা জানায়, আগের মতো আসল দুধের ছানা, মেওয়া, ক্ষীরসা পাওয়া যায় না। অনেক ভালো কারিগর মিষ্টি বানানো ছেড়ে দিয়েছেন। আর গত কয়েক বছরে চিনি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টির দাম বাড়লেও লাভ কমে গেছে।

 

 

মন্তব্য