kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

জনসংখ্যার অনেক সূচকে আগের চেয়ে পিছিয়ে দেশ

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস

তৌফিক মারুফ   

১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জনসংখ্যার অনেক সূচকে আগের চেয়ে পিছিয়ে দেশ

গত ২৫ বছরে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অনেক অগ্রগতি-অর্জন হয়েছে। কমেছে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, সন্তান জন্ম দেওয়ার হার। বেড়েছে গড় আয়ু, জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারসহ আরো কিছু সূচকের হিসাব, যা নিয়ে সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। এ অগ্রগতির সঙ্গে বেড়েছে এসব কাজে নিয়োজিত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কাজ করা জনবলের বেতন-ভাতা, পদ-পদবি, সুযোগ-সুবিধার পরিধি।

তবে দেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরুর পর থেকে গত ৫০ বছরের পরিসংখ্যানের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গত ২৫ বছরে (১৯৯৪-২০১৯) পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের আওতায় দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যে অর্জন, তার তুলনায় আগের ২৫ বছরে (১৯৬৯-১৯৯৪) সাফল্যের হার বেশি। অথচ তখন এই সেক্টরে কাজ করা জনবলের এখনকার মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আগের চিত্রে না তাকিয়ে গত ২৫ বছরের অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরে আজ বৃহস্পতিবার উদ্যাপন করছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘জনসংখ্য ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ২৫ বছর : প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন।’

এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার ও দাতা সংস্থা যে হারে গত ২৫ বছরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে, এই খাতে বিনিয়োগ করেছে, সেই হারে কাজের গতি বাড়াতে পারেনি। ফলে আগের ২৫ বছরের তুলনায় পরের ২৫ বছরের অগ্রগতি কম। আগে যোগাযোগব্যবস্থা এখনকার মতো ভালো ছিল না, ডিজিটাল ব্যবস্থা ছিল না, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত পরিবহনের ব্যবস্থা ছিল না, বেতন-ভাতাও তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু তাঁদের আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল না। বিপরীতে বর্তমানে সুযোগ-সুবিধা যত বেড়েছে অনিয়মও তত বেড়েছে। কমেছে আন্তরিকতা; যার প্রভাব পড়েছে তুলনামূলক পরিসংখ্যানে। ফলে বিভাগটিতে সংস্কারের দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই শেষ ধাপে অগ্রগতির হার কিছুটা কম থাকে। এ ক্ষেত্রে তেমনটাই হয়তো ঘটেছে। তবু আমরা বেশি পেছনের তথ্যে না গিয়ে গত ২৫ বছরে যে অগ্রগতিগুলো এসেছে, সেগুলো ধরে রেখে আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত ২৫ বছরে অবশ্যই গড় আয়ু, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, পদ্ধতি ব্যবহারসহ অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধুবাদ দিতেই হবে। তবে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সূচক রয়ে গেছে, যেখানে অগ্রগতি খুবই কম। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে এখন সেদিকে নজর দিতে হবে।’

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) স্টেট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ২০১৯-এর তথ্যানুসারে ১৯৬৯ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৬৩.৪ মিলিয়ন, ১৯৯৪ সালে তা বেড়ে হয় ১১৬.২ মিলিয়ন এবং চলতি বছরে তা হয় ১৬৮.১ মিলিয়ন। এ ক্ষেত্রে প্রথম ২৫ বছরে আর পরের ২৫ বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে সমান ৫২ মিলিয়ন করে। ১৯৬৯ সালে দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪৮, ১৯৯৪ সালে যা হয় ৬১ আর চলতি বছর তা হয়েছে ৭৩। এ হিসাব অনুযায়ী আগের ২৫ বছর গড় আয়ু বেড়েছিল ১৩ বছর, গত ২৫ বছর বেড়েছে ১২ বছর। জন্মহার ১৯৬৯ সালে ছিল ৬.৯, যা ১৯৯৪ সালে হয় ৩.৮ এবং বর্তমানে তা ২-এ এসে দাঁড়িয়েছে। সেখানেও আগের ২৫ বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এমনকি জন্ম নিরোধক আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার ১৯৬৯-১৯৯৪ পর্যন্ত বেড়েছিল ৩৪ শতাংশ, অন্যদিকে তা চলতি বছর পর্যন্ত বেড়েছে ২০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব (পরিবার কল্যাণ) শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘আগের পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি এক নয়। কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক চিত্রে এমনটা হয়েছে। তবে গত ২৫ বছরের অর্জনকে অবশ্যই আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে।’

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শরীফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের ২৫ বছরে অনেক দিক থেকে যেমন বেশি সমস্যা ছিল, অনেক ক্ষেত্রে এখনকার থেকে সুবিধাও ছিল। গত ২৫ বছরে আমরা কাজের ক্ষেত্রে জনবল সংকটে ভুগেছি। দীর্ঘদিন নিয়োগ ছিল না। অনেক বছর কার্যক্রম প্রায় মন্থরগতিতে চলেছে। তার মানে এটা নয় যে আমরা কাজ করছি না, বরং কাজের গতি আগের চেয়ে বেড়েছে।’

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে স্বাস্থ্যসচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে ১৯৯৪ সালে যেখানে মাত্র ১৫ শতাংশ নারী আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করত, বর্তমানে তা বেড়ে ৩৭ শতাংশ হয়েছে। বাংলাদেশে এ হার বর্তমানে ৬১.৬ শতাংশ।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের কর্মসূচি : বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে এবং সকাল সাড়ে ১০টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী।

মন্তব্য