kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বিটিআরসির সঙ্গে বিরোধ মোবাইল অপারেটরদের

মূসকের অংশ না দেওয়ায় গত তিন মাসের রাজস্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিটিআরসির সঙ্গে বিরোধ মোবাইল অপারেটরদের

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার মোবাইল ফোন অপারেটররা চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের বা এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে বিটিআরসির পাওনা অনুসারে রাজস্বের অংশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ও বার্ষিক তরঙ্গ ফি—এসবের টাকা জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিটিআরসি তা গ্রহণ করেনি।  মূল্য সংযোজন করে (মূসক) টাকা জমা দেওয়া না দেওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে টাকা জমা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

মোবাইল অপারেটররা এবারই প্রথম বিটিআরসির পাওনার সঙ্গে মূসকের অংশ বাদ দিয়ে টাকা জমা দিতে যায়। এ বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের যুক্তি হচ্ছে—বিটিআরসি এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে মূসক বা ভ্যাট নিবন্ধন করেনি। এ কারণে মূসকের অংশ বাদেই টাকা নিতে হবে বিটিআরসিকে। অন্যদিকে বিটিআরসি বলছে, মূল টাকার সঙ্গে ১৫ শতাংশ মূসক ছাড়া টাকা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারেই মূসক ছাড়া টাকা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত রাজস্বের ভাগ হিসেবে মোবাইল অপারেটরদের কাছে বিটিআরসি বা সরকারের প্রাপ্য ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই পাওনার সঙ্গে মূসকের পরিমাণ ৭৬৭ কোটি টাকার কাছাকাছি। কিন্তু এবার মূসকের এই টাকা বাদ রেখেই মোবাইল ফোন অপারেটররা বিটিআরসিকে রাজস্বের টাকা পরিশোধ করতে গিয়েছিল।

বিষয়টি সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিটিআরসি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে মূসক নিবন্ধনের আবেদন করে বসে আছে। রাজস্ব বোর্ড নিবন্ধন না দিলে বিটিআরসির কিছু করার নেই। বিটিআরসিকে মূসকসহ মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এটা হয়ে আসছে। বিটিআরসি যে টাকা আদায় করে তা মূসক ও রাজস্ব হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়ে যায়। এতে রাজস্ব বোর্ডেরও কোনো আপত্তি নেই। মোবাইল অপারেটররা এবারই কেন এ নিয়মের বাইরে যাবে?

এদিকে গত বুধবার রাতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন এমটবের মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার  জেনারেল  (অব.) এস এম ফরহাদ জানান, বিটিআরসির মূসক (ভ্যাট) নিবন্ধন না থাকায় দেশের মোবাইল অপারেটররা তাদের গত প্রান্তিকের (এপ্রিল  থেকে  জুন-২০১৯) বিভিন্ন পাওনা যেমন রাজস্বের অংশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল ও বার্ষিক তরঙ্গ ফি ইত্যাদির অর্থ থেকে মূসকের অংশ বাদ দিয়ে জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিটিআরসি সেই অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর বর্তমান মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২) অনুযায়ী অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন থাকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আছে।

এ আইনের ৪৯(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সরবরাহকারী নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত না হইলে এবং সমন্বিত কর চালানপত্র এবং উেস কর কর্তন সনদপত্র জারি না করিলে, উেস কর কর্তনকারী সত্তা সরবরাহকারীর নিকট হইতে কোনো সরবরাহ গ্রহণ করিবে না এবং সরবরাহকারীকে উক্ত সরবরাহের বিপরীতে কোনো মূল্য পরিশোধ করিবে না।’

এস এম ফরহাদ বলেন, টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি এখন পর্যন্ত মূসক বা ভ্যাট নিবন্ধন না করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের ১৬ কোটিরও বেশি মোবাইল গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে মোবাইল অপারেটররা তাদের গত প্রান্তিকের অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয় যা বিটিআরসি গ্রহণে অসম্মতি জানিয়েছে।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে সংস্থার সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, এ সমস্যার এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানায়, আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় বিটিআরসিকে এখনই মূসক নিবন্ধন দেওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষকে কিছুটা ছাড়া দিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

 

 

 

মন্তব্য