kalerkantho

রোহিত-রাহুলের সেঞ্চুরিতে দাপুটে জয় ভারতের

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোহিত-রাহুলের সেঞ্চুরিতে দাপুটে জয় ভারতের

নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন রোহিত শর্মা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন একই টুর্নামেন্টে পাঁচ পাঁচটি সেঞ্চুরি। গতকাল লিডসে স্বপ্নের ফর্মে থাকা রোহিতের সঙ্গে সেঞ্চুরি করেছেন লোকেশ রাহুলও। তাতে শ্রীলঙ্কার ২৬৪ রানের চ্যালেঞ্জ ভারত পেরিয়ে যায় ৩৯ বল হাতে রেখে। ৭ উইকেটের জয়ে ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট বিরাট কোহলির দলের। অন্য ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে না পারে তাহলে শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে ভারত।

ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের জন্য এটা খুব কঠিন লক্ষ্য ছিল না। রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল গড়েন ১৮৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। লাসিথ মালিঙ্গা, থিসারা পেরেরা বা ধনঞ্জয়া ডি সিলভাদের সহজেই সামলেছেন দুজন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে রোহিত শর্মা এই আসরে রেকর্ড গড়েছেন পঞ্চম সেঞ্চুরির। গত আসরে চারটি সেঞ্চুরি ছিল কুমার সাঙ্গাকারার। এ ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছয় সেঞ্চুরি করা শচীন টেন্ডুলকারের পাশেও নাম লিখিয়েছেন রোহিত শর্মা। ৯৪ বলে ১৪ বাউন্ডারি ২ ছক্কায় ১০৩ করে কাসুন রাজিথার বলে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। বিরাট কোহলিকে নিয়ে বাকি পথটা পাড়ি দেওয়াটা সহজ করে দেন লোকেশ রাহুল। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা রাহুল ১১৮ বলে ১১ বাউন্ডারি ১ ছক্কায় ১১১ করে ফেরেন লাসিথ মালিঙ্গার বলে। ঋষভ পান্ট করতে পারেননি তেমন কিছু। মাত্র ৪ করে বোল্ড ইসুরু উদানার বলে। তবে বিরাট কোহলি ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে এনে দেন ৭ উইকেটের সহজ জয়।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ৫৫ রানে হারায় ৪ উইকেট। সেখান থেকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের সেঞ্চুরিতেই ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। লিডসে ৭ উইকেটে ২৬৪ রান করেছে তারা। লিগ পর্বের শেষ দিনে ভারতের জন্য এই ম্যাচ সেমিফাইনাল প্রস্তুতির। জাসপ্রিত বুমরাহ ৪০ রানের মধ্যেই ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল পেরেরাকে। রবীন্দ্র জাদেজা বোলিংয়ে প্রথম ওভারেই ফেরান কুশল মেন্ডিসকে। টুর্নামেন্টে এদিনই প্রথম একাদশে ঢুকেছেন সাফল্যে। শুরুতেই সাফল্য এনে দিয়েছেন। তার পরের ওভারে আঘাত হার্দিক পাণ্ডের। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান অভিষ্কা ফার্নান্ডোকে তুলে নেন তিনি। ফার্নান্ডোর ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির গ্লাভসে। জাদেজার বলে মেন্ডিসকে স্টাম্পডও করেছেন ধোনি। প্রথম এই চার ব্যাটসম্যানের ডিসমিসালেই ধোনি। বুমরাহর বলে করুণারত্নে আর পেরেরার ক্যাচও নিয়েছিলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক। লাহিরু থিরিমানেকে নিয়ে ম্যাথুজের লড়াই শুরু এরপর। দুজনের জুটিতেই আসে ১২৪ রান। ৬৮ বলে ৫৩ রান করে থিরিমানে আউট হন ৩৮তম ওভারে। কুলদীপ যাদব পেয়েছেন তাঁর উইকেট। থিরিমানে ফিরলেও ম্যাথুজ খেলছিলেন তাঁর খেলা। থিরিমানের পর ধনঞ্জয় ডি সিলভার সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি তাঁর। ৪৪তম ওভারে সেঞ্চুরি পূরণ করেন ম্যাথুজ ১১৫ বলে। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি স্বরূপে ছিলেন বলা যাবে না। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়টিতেই খেলেছিলেন ৮৫ রানের ইনিংস। সেটিও এই মাঠেই। কাল গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও জ্বলে উঠেছে তাঁর ব্যাট।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এর আগে মাত্র দুটি সেঞ্চুরি তাঁর। তবে সেই দুটিও ভারতের বিপক্ষেই। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই কাল তৃতীয় সেঞ্চুরি পেলেন। শেষ পর্যন্ত ১১৩ রানে শেষ হয়েছে তাঁর ইনিংস। ১২৮ বলে ১০ চার ও ২ ছয়ে যে ইনিংস সাজিয়েছেন লঙ্কানদের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৪৯তম ওভারে বুমরাহকেই উইকেট দিয়েছেন তিনি। শেষ ৫ ওভারে প্রত্যাশিত রান পায়নি লঙ্কানরা, পেয়েছে ৩৩ রান। উইকেট হারিয়েছে দুটি। থিসারা পেরেরা ঝড় তুলতে পারেননি। ৩ বলে ২ করে ফিরে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রান জমা করতে পেরেছে তারা স্কোরবোর্ডে। ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে বুমরাহর ৩ উইকেট, ১টি করে উইকেট ভুবনেশ্বর কুমার, পাণ্ডে, জাদেজা ও কুলদীপের।

মন্তব্য