kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

ময়মনসিংহে উদ্ধার সৌরভ

বাঁধা ছিল হাত পা চোখ বাসায় ফিরে কাঁদলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁধা ছিল হাত পা চোখ বাসায় ফিরে কাঁদলেন

নিখোঁজের ১১ দিন পর গতকাল ময়মনসিংহে উদ্ধার হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে ইফতেখার আলম সৌরভ (মাঝে)। পরে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। : কালের কণ্ঠ

নিখোঁজের ১১ দিন পর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভকে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার তারাকান্দা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তারাকান্দা উপজেলার মধুপুর বটতলা এলাকার জামিল অটোরাইস মিলের সামনে থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএসে সোহেল তাজের বাসায় পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। বাসায় ফিরেই মা এবং মামা সোহেল তাজকে জড়িয়ে ধরে ফুঁফিয়ে কাঁদতে থাকেন সৌরভ। পরে মামা সোহেল তাজ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছিল। তারাকান্দায় ফেলে যাওয়ার সময় তাঁর হাত-পা ও চোখ ছিল বাঁধা; পরনে ছিল শুধু পাজামা।  

এদিকে চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌরভকে কারা অপহরণ করেছিল তা তদন্ত করা হবে। এ জন্য চট্টগ্রামে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলবে পুলিশ।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেনের বরাত দিয়ে আমাদের ময়মনসিংহের নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফুলপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল ভোর ৫টা ২০ মিনিটের সময় ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের তারাকান্দার মধুপুর বটতলা এলাকার জামিল অটোরাইস মিলের সামনে দুর্বৃত্তরা সৌরভকে ফেলে রেখে যায়। ওই রাইস মিলের কর্মচারীরা সৌরভের পরিবারকে খবর দেয়। তারাকান্দা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সৌরভকে উদ্ধার করে এসপির কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সৌরভ সুস্থ আছেন। দুপুরে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

জামিল রাইস মিলের ব্যবস্থাপক বাবু কাঞ্চন বলেন, ‘ভোর সোয়া ৫টার দিকে আমাদের মিলসংলগ্ন রাস্তার পাশে এক যুবকের বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুনে শ্রমিক সমির উদ্দিন ও আমি তাঁকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই।’

সৌরভ বাসায় আসার পর সোহেল তাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৌরভকে যখন পাওয়া যায় তখন তার হাত-পা বাঁধা ছিল। গায়ে জামা ছিল না, শুধু পাজামা পরা ছিল। তার চোখ বাঁধা ছিল। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার তাকে বাসায় নিয়ে গোসলের ব্যবস্থা করেন এবং কিছু খাবার দেন। উদ্ধারের পর সৌরভ বুঝেই উঠতে পারেনি সে কোথায় আছে।’ এর আগে ফেসবুক লাইভে এসে সোহেল তাজ বলেন, ‘সৌরভের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। সে মানসিকভাবে একেবারে বিপর্যস্ত। এখন তাকে চাপমুক্ত রাখতে চাই। আমরা তাকে একটু স্বস্তিতে রাখতে চাই।’

সৌরভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মামা, আমার পরিবার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা কষ্ট করেছে আমার জন্য, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান বলেন, ‘আর যেন কোনো মাকে সন্তানের জন্য এমন অপেক্ষা না করতে হয়।’

পুলিশের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সৌরভ ‘অপহরণের’ নেপথ্যে প্রেমের ঘটনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা মো. ইদ্রিস আলম। সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে সৌরভের প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে মেয়ের বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে এ অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

চট্টগ্রাম পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ হবে না শর্তে জানিয়েছেন, যেহেতু সৌরভ ‘অপহরণ’ কিংবা উদ্ধারের পর এখনো মামলা হয়নি, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। যদি সৌরভের পরিবার মামলা করে তখন তদন্ত পর্যায়ে সব সত্য প্রকাশিত হবে।

উদ্ধার হওয়া সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হেফাজতে নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সৌরভ উদ্ধার হয়েছে। এখন ঢাকায় তাঁর মা-বাবা ও মামার হেফাজতে আছে। তবে তাঁকে চট্টগ্রামে এনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’ এ ঘটনায় মামলা দায়ের হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভিকটিম ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দিলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন চট্টগ্রামের মিমি সুপার মার্কেটের সামনে থেকে সোহেল তাজের মামাতো বোনের ছেলে সৌরভ অপহৃত হন। ১০ জুন পাঁচলাইশ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন সৌরভের বাবা। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ বিষয়টি জনসম্মুখে আনেন। এরপর ভাগ্নেকে অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় ফেরত চেয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি।

মন্তব্য