kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

ডিজিকে ঘিরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ডিজিকে ঘিরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অচলাবস্থা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালকে ঘিরে সংস্থাটিতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। সংস্থার ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বড় অংশ গত কয়েক দিন ধরে সংস্থার কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে, ডিজি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। এমনকি ইফার ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ২৩ জনই ডিজির পদত্যাগের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার পরও পদ ছাড়ছেন না মহাপরিচালক।

গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় ২৫ জন পরিচালকের মধ্যে ২৩ জন অংশ নেন। তাঁরা সকলেই মহাপরিচালকের পদত্যাগের পক্ষে মত দেন।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভাবমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে এবং সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই সংস্থার পরিচালকরা মনে করেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক, এখনকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা এবং মহাপরিচালকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে অত্র সংস্থার মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল মহোদয়কে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।’

এ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলামের কাছে তিন দিনের ছুটি চেয়ে আবেদন করেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল, যা নিয়মবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা। কারণ মহাপরিচালক ছুটি চাইলে তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। অতীতে তিনি তাই করেছেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারকে গত ৩০ মে সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। ওই বরখাস্তের আদেশ বাতিল করতে গত ৩ জুন ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন মহীউদ্দিন। এ ঘটনার পর গত ১০ জুন মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। দুর্নীতির অভিযোগে কেন সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না এবং তাঁর নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না—সাত কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব দিতে বলা হয় নোটিশে। পাশাপাশি মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশও বাতিল করা হয়। কিন্তু সাত কার্যদিবস পার হলেও মহাপরিচালক এখনো নোটিশের জবাব দেননি বলে জানা যায়।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অচলাবস্থা কাটাতে এর মহাপরিচালক নিজেই পদত্যাগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজিকে পদত্যাগ করতে বলা হবে না। শুভবুদ্ধির উদয় হলে, আশা করি তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তবে সংগঠনটিতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হলে তা তদন্ত করবে মন্ত্রণালয়।’

জানা যায়, সামীম মোহাম্মদ আফজাল জুডিশিয়াল সার্ভিসে ১৯৮৩ সালে যোগদান করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে অনিয়ম করেছেন তিনি। ২০০৯ সালের পর থেকে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দৈনিক ভিত্তিতে ৬০০ থেকে ৭০০ কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। যাদের পরবর্তী সময়ে নিয়মিতকরণ করা হয়। তবে এখনো ২০০ থেকে ৩০০ কর্মচারী দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া একাধিকবার কর্মকর্তা নিয়োগেও মহাপরিচালক অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি, নিয়োগে আত্মীয়করণ, কেনাকাটায় অনিয়মসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আবার যারা তাঁর কথা শুনতেন না তাদের সাময়িক বরখাস্ত করারও অভিযোগ রয়েছে সামীম মোহাম্মদ আফজালের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিজির আস্থাভাজন যেসব কর্মকর্তা ছিলেন তাঁদের অনেকেই এখন তাঁর পদত্যাগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি ডিজির আত্মীয়-স্বজনও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করে ইফার একজন পরিচালক বলেন, ‘মহাপরিচালক অনৈতিক অনেক কাজ করেছেন। যে কারণে পরিচালকরা তাঁকে পদত্যাগ করতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আত্মীয়করণসহ নানা অভিযোগ আছে। এমনকি নানা কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এখন জুন মাস চলছে। আর্থিক বছরের শেষ পর্যায়। এ অবস্থায় নতুন ডিজি না পেলে আমরা কাজ করতে পারব না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এসব ব্যাপারে কথা বলার জন্য ইফা ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা