kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

হারের চোখ-রাঙানি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হারের চোখ-রাঙানি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর অ্যারন ফিঞ্চ। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রানও এখন তাঁর। ছবি : এএফপি

প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশায় যেটুকু মেলেনি তা হলো অস্ট্রেলিয়ার সাড়ে তিন শ রান না করতে পারা। ইনিংসটি সেভাবেই গড়ে উঠেছিল। কিন্তু শেষটায় যে ঝড় প্রয়োজন ছিল, তা পায়নি অস্ট্রেলিয়া। তবু অ্যারন ফিঞ্চের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৩৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া। হিসাবের বাইরে সব ঘটতে থাকে লঙ্কানরা ব্যাটিংয়ে নামতেই। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সদের সামলে সাবলীলভাবে খেলতে থাকেন দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা। তাঁদের বিদায়ের পর অবশ্য যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও ৪৫.৫ ওভারে ২৪৭ রানে অল আউট শ্রীলঙ্কা। ৮৭ রানের জয়ে অস্ট্রেলিয়া উঠে গেল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

ভারতের বিপক্ষে ধীরগতির এক ইনিংস খেলা ডেভিড ওয়ার্নারকে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্বরূপে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এই ম্যাচে আবারও যেন অস্বস্তিতে, ৪৮ বলে ২৬ করে ধনঞ্জয় ডি সিলভার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন। তাঁর জায়গায় নামা ওসমান খাজাও যেন নিজেকে খুঁজছিলেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে ফিঞ্চ ছিলেন নিজের সেরা চেহারায়। খাজা ১০ রান করে ফিরে যাওয়ার পর স্টিভেন স্মিথ নেমে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন। দুজনের জুটি গড়ায় দলীয় ২৭৩ রান পর্যন্ত, আর নিজেদের অবদান ১৭৩। যাতে বল খরচ হয়েছে মাত্র ১১৯টি। লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান দুই অধিনায়ক। ফিঞ্চ সেঞ্চুরির পর দেড় শও পেরিয়েছেন, মনে হচ্ছিল এদিন ২০০ রানও ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি। কিন্তু ৪০ ওভারের পর হাত খুলে মারতে গিয়েই ১৫৩ রানে আউট হয়েছেন ইসুরু উদানার বলে। ১৩২ বলে ১৫ চার ও ৫ ছয়ে নিজের ইনিংস সাজিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া ওপেনার। ফিঞ্চ ফিরে গেলেও স্মিথ ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু লাসিথ মালিঙ্গার ইয়র্কারে তিনি ফিরে যান পরের ওভারেই। ৫৯ বলে ৭৩ রান করেছেন স্মিথ। ৪৫তম ওভারে তিন শ পেরোয় অস্ট্রেলিয়া, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নেমে তাঁর খেলা খেলছিলেন। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তুলতে পেরেছে মাত্র ৩২ রান। ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত ছিলেন ২৫ বলে ৪৬ রান করে।

শ্রীলঙ্কাও জবাবটা দেওয়া শুরু করেছিল দারুণভাবে। প্রথম দুই ওভারেই আসে ২৪ রান, ৭ ওভারে ৫০ পার, ১০ ওভারে ৮৭। ১৫.৩ ওভারে ১১৫ রানের উদ্বোধনী জুটির পর কুশল পেরেরাকে বোল্ড করে দুজনকে আলাদা করেন মিচেল স্টার্ক। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডারে মড়কের শুরুটা হলো গোড়া থেকেই। এরপর উইকেট পড়তে লাগল নিয়মিত বিরতিতে। লাহিরু থিরিমানে ১৬ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিলেন। এরপর সবচেয়ে মূল্যবান উইকেটটা তুলে নিলেন কেন রিচার্ডসন। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ম্যাক্সওয়েলে হাতে ক্যাচ দিয়ে শতরান থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে বিদায় নিলেন দিমুথ করুনারত্নে। শ্রীলঙ্কার শেষ আশা ছিল অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ আর থিসারা পেরেরাকে ঘিরে। একজন করেছেন ৯ রান, অন্যজন ৭ রান। এখানেই জয়ের রাস্তা থেকে হারের গর্তে পড়ে যাওয়া শ্রীলঙ্কার, বাকিটা স্রেফ ব্যবধান কমানোর প্রচেষ্টা। তাতেও কেউ খুব একটা সফল নন। ৪৫.৫ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা, ম্যাচে ৫৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন স্টার্ক। একই ম্যাচে ফিঞ্চ বসলেন রানের চূড়ায় আর স্টার্ক বসলেন উইকেটের চূড়ায়। আর দলও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। সব মিলিয়ে এই দলটাকে দেখাচ্ছে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের মতোই। ক্রিকইনফো

মন্তব্য