kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে ডিআইজি মিজান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে ডিআইজি মিজান

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বছরের শুরুতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি। এর পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান থেকে রেহাই পেতে দুদক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার দাবি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা মিজান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপকর্ম করে দীর্ঘদিন বহাল থাকায় ডিআইজি মিজান ঘুষ কেলেংকারির ঘটনার জন্ম দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দুদক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বহাল তবিয়তে ডিআইজি মিজান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই অপরাধ ঢাকতে ঘুষ দিয়েছেন ডিআইজি মিজান।’ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তাঁর আগের অপরাধের বিষয়গুলোর তদন্ত চলছে। নতুন করে যদি ঘুষ দেওয়ার মতো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের বক্তব্য জানতে চাইলে সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘আগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন অনেক আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ আছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে প্রাথমিক তদন্ত করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধিমোতাবেক উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সাসপেন্ড করতে পারে না। এ বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।’

মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার সময় তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ায় রমনা থানায় মামলা দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ওই তরুণীকে গ্রেপ্তারও করান তিনি। এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব বিষয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মইনুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত আইজিপি শাহাব উদ্দীন কোরেশীকে প্রধান করে দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে মিজানুর রহমানকে ডিএমপি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। দুটি তদন্ত কমিটিই ডিআইজি মিজানের কর্মকাণ্ডকে ‘অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুই তদন্ত কমিটিই গত বছরের শুরুতেই প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগও আনা হয় মিজানের বিরুদ্ধে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়নি মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে এক তদন্ত কমিটির প্রধান শাহাব উদ্দীন কোরেশী বলেন, ‘ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের নেই। তবে, তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো যথাসময়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি সচিবের এখতিয়ারে।’ এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও স্বরাষ্ট্রসচিব সাড়া দেননি।

মন্তব্য