kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন

মামলা প্রত্যাহারের কৌশলে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলা প্রত্যাহারের কৌশলে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে!

১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার পর ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের কৌশল এঁটেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পরিবারের লোকজন। কিশোরীর বয়স ১৩ বছরের স্থলে ১৯ করে জন্ম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বড়াইল গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। গত মঙ্গলবার এফিডেভিটের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে মামলার পর ধর্ষককে পুলিশ খুঁজে না পেলেও গত মঙ্গলবার শ্বশুরবাড়িতেই বাসর করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের বড়াইল গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের মেয়ে বেদেনা আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আলী ইসলামের (২৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভনে আলী ইসলাম কিশোরীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে গত ৩১ মে ইফতারের পর আলী ইসলাম একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। এ অবস্থায় কিশোরী বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে ধর্ষকের ভাবি পাখি আক্তার কৌশলে জন্ম নিবন্ধন বড়ি খাওয়ান। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গ্রামের মাতবররা মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে পাঠান। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মেয়েটির পরিবার থানায় এসে মামলা দায়ের করে। এ নিয়ে গত ২ জুন কালের কণ্ঠে ‘দেবর ধর্ষক জানার পর জরুরি জন্মনিরোধ পিল খাওয়ান ভাবি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মামলার পর অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা দেখালে উঠে পড়ে লাগে ধর্ষকের পরিবারের লোকজন। তাদের সহায়তা করে ইউপি সদস্যসহ কিছু সালিসকারী। তারা মামলা প্রত্যাহার করতে বিয়ে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করে। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার নির্যাতনের শিকার মেয়ে ও অভিযুক্ত ধর্ষককে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহ আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে নিবন্ধনের কাজটি সম্পন্ন করে। বিয়ের কাজি হচ্ছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত কাজি মো. রবিউল ইসলাম। এদিকে বিদ্যালয় থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্র থেকে জানা যায়, কিশোরীর জন্ম ২০০৫ সালের ১৫ আগস্ট। অন্যদিকে ইউপি সদস্যের দেওয়া জন্ম নিবন্ধনে (২০০০৬১১৭২৭৯১১১২৮৬) দেখা যায়, তার জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ২০০০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজগাতী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিয়ের মধ্যস্থতাকারী এবং বিয়ের ২ নম্বর সাক্ষী মো. রাফিউল হাফিজ বলেন, ‘দুই পক্ষই আমার কাছে গিয়ে মামলাটির মীমাংসার স্বার্থে বিয়েটি খুবই জরুরি বললে ১৯ বছর দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করে দিই।’ এটা যে মহা অন্যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মিসটেক হয়ে গেছে।’ এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান রুকন উদ্দিন বলেন, ওই মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য সুপারিশ করায় স্বাক্ষর দিয়েছি।’

মন্তব্য