kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

পুরুষের চেয়ে নারী বাঁচে বেশিদিন

বাংলাদেশীদের গড় আয়ু এখন ৭২.৩

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরুষের চেয়ে নারী বাঁচে বেশিদিন

দেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২ দশমিক ৩ বছর বা ৭২ বছর তিন মাস ১৮ দিন। এর মধ্যে পুরুষের প্রত্যাশিত আয়ু ৭০ দশমিক ৮ বছর বা ৭০ বছর ৯ মাস ১৮ দিন। নারীদের আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৮ বছর বা ৭৩ বছর ৯ মাস ১৮ দিন। তুলনামূলকভাবে পুরুষের চেয়ে নারীরা বাঁচে বেশিদিন। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল গড়ে প্রতিবছর শূন্য দশমিক ৩২ বছর হারে বেড়েছে। অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে আয়ুষ্কাল বেড়েছে ১ দশমিক ৬ বছর। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ছিল ৭২ বছর। ২০১৬ সালে ৭১ দশমিক ৬ বছর, ২০১৫ সালে আয়ুষ্কাল ছিল ৭০ দশমিক ৯ বছর। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে প্রতিবেদনটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিবিএসের মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেশি। শুধু শ্রীলঙ্কার আয়ুষ্কাল বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৭৫ বছর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে, ফলে গড় আয়ু বাড়ছে। মানুষের বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। এটি সরকারের কার্যক্রমের ফসল। এগুলো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য। কেননা খানাপ্রধানের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল আছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নজিবুর রহমান বলেন, এখন মানুষ অনেক বেশি সুচিকিৎসা পাচ্ছে। সুশিক্ষাও পাচ্ছে। এ ছাড়া জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দেশ যে উন্নত হচ্ছে তার প্রতিফলন ঘটেছে এই আয়ুষ্কাল বাড়ার মধ্যে।

এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, আগে পুরুষরা বেশি বাঁচত। এখন দেখা যাচ্ছে নারীরা বেশি বেঁচে থাকতে পারে। কেননা এখন সচেতনতা বেড়েছে। নারীরা আগে পরিবারের সবার শেষে খেতে বসত। ফলে তারা অপুষ্টিতে ভুগত। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। নারীরা অনেক সচেতন হয়েছে। এ ছাড়া মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। ফলে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।

প্রতিবেদনে শিক্ষার হার সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশে এখন ১৫ বছর ও তার ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার মধ্যে ৭৩.৯ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত। পুরুষদের মধ্যে শিক্ষার হার ৭৬.৭ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৭১.২ শতাংশ। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে জাতীয়ভাবে শিক্ষার হার ছিল ৭২.৯ শতাংশ। এ হিসাবে শিক্ষার হার বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাত বছর ও এর ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার মধ্যে সাক্ষরতার হার গড় ৭৩.২ শতাংশ। ২০১৭ সালে এ অংশের সাক্ষরতার হার ছিল ৭২.৩ বছর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৯০.১ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকে। ২০১৭ সালে এ হার ছিল ৮৫.৩ শতাংশ। ট্যাপ বা নলকূপের পানি ব্যবহার করে শতকরা ৯৮ শতাংশ পরিবার। স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করে ৭৮.১ শতাংশ পরিবার।

বিবিএস বলেছে, এইচআইভি বা এইডস সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। ২০১৮ সালের জরিপে দেখা গেছে, ১৫-৪৯ বছর বয়সী ৩৪.৬ শতাংশ নারী এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণের সব পদ্ধতি সম্পর্কে জানে। ২০১৪ সালে এই হার ছিল ২১ শতাংশ। এ ছাড়া ২০১৮ সালে দেখা গেছে, এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণের যেকোনো একটি পদ্ধতি সম্পর্কে জানে ৬৮.৯ শতাংশ নারী, যা ২০১৪ সালে ছিল ৬১.৫ শতাংশ। অন্যদিকে মানুষের বিদেশে যাওয়ার হার কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালে এ হার দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজারে ৭২ দশমিক ৪ জনে। ২০১৭ সালে এটি ছিল ৭৪ দশমিক ৩ জন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৮ সালে সারা দেশের দুই হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই নমুনা এলাকার পরিবারের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৯৭ হাজার ২৩৩টি।

 

মন্তব্য