kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল

পলেস্তারা খসে শিশু রোগীসহ আহত ৯

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পলেস্তারা খসে শিশু রোগীসহ আহত ৯

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গতকাল সকালে শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ শিশু রোগীসহ ৯ জন আহত হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে গতকাল বুধবার সকালে পাঁচ শিশু রোগীসহ ৯ জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে। পরে তাদের একই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে এ ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হলেও রোগীর চাপ বেশি থাকার ছুতোয় ওই পুরনো ভবনে চিকিৎসাসেবা চলছিল।

আহতরা হলো রাফি (২ বছর ৬ মাস), মো. ইসমাইল (৫), ইমাম উদ্দিন (৫), সুমাইয়া (১২), মো. রাসেল (১৬), মো. ইব্রাহিম (৫০), পারুল বেগম (৪৭), বাদশা (৩৫) ও রোজিনা বেগম (২০)। এর আগে ২০১৮ সালের ১২ জুলাই নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ওয়ার্ডের ছাদ ধসে সিনিয়র স্টাফ নার্স স্বপ্না মজুমদার ও শিক্ষানবিশ নার্স রানী আক্তার আহত হয়েছিলেন।

রোগীর স্বজনরা জানায়, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ শিশু ওয়ার্ডে বিকট শব্দে পলেস্তারা খসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার সময় অনেককেই তাদের শিশুদের হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

মাইজদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হুমায়ুন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল গিয়ে অন্য রোগীদের বের করে আনে।

পরে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক তন্ময়  দাস। তিনি দুপুর ১২টার মধ্যে ওই ভবনে থাকা চারটি ওয়ার্ডের সব রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। দুপুরের পর ওই ভবনের চারটি ওয়ার্ডের মধ্যে শিশুদের দুটি ওয়ার্ড পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়, পাশাপাশি মেডিসিন ওয়ার্ডে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রেখে তাদেরও সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিলুফা আকতার জানান, তিনি তখন ওই ওয়ার্ডে রোগীদের সেবা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সকাল পৌনে ৭টায় বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে। এ সময় ওয়ার্ডে থাকা শিশু ও তাদের অভিভাবকরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে।

শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু সুমাইয়ার বাবা নুর হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে এখন আমার শিশু ইটের আঘাতে কাতরাচ্ছে। হাসপাতাল ‘নিজেই রোগী’, সেখানে আমরা কিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা নেব।’

হাসপাতালটিতে দুটি শিশু ওয়ার্ডে ২৮ জনের শয্যা থাকলেও বুধবার এ দুটি শিশু ওয়ার্ডে রোগী ছিল ১১৪ জন। নোয়াখালী জেলা শহরের ২৫০ শয্যার এই জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। ১৯৭২ সালে ভবনটি স্থাপিত হয়। পরে বিভিন্ন সময় এটি সংস্কার করা হলেও ২০১৫ সালের নভেম্বরে এটি ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করে গণপূর্ত বিভাগ। প্রয়োজনীয় ভবন না থাকায় এত দিন ‘ব্যবহার অনুপযোগী’ এ ভবনেই সংস্কার করে রোগীর চিকিৎসাসেবা চলছিল। গণপূর্ত বিভাগই বাধ্য হয়ে এটি সংস্কার করত। এর আগেও কয়েকবার এ ভবনে ফাটল ও পলেস্তার খসে পড়ে নার্স আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের ওই ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার জন্য ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থাকে দায়ী করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ বলেন, ‘এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হলেও আমরা কাজ করছি বাধ্য হয়ে। পুরনো ভবনটি পুরোটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও স্থান সংকুলানের অভাবে ওই ওয়ার্ডগুলোতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান বলেন, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের পুরনো ভবনটি ২০১৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ২০১৮ সালের ১২ জুলাই জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে এই ভবনে কোনো ধরনের কার্যক্রম চালানো নিরাপদ নয় মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

মন্তব্য